দেশ পুনর্গঠন এবং বিগত দিনের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণেই এই বৃহত্তর ঐক্য গঠিত হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরে বাংলা নগর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসনের এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই জনসভায় বিশেষ সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, একটি পরাজিত শক্তি চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতেই দেশের ইসলামপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনীতিতে মুনাফেকি ও দ্বিচারিতার কোনো স্থান নেই। যারা মুখে এক কথা বলে এবং অন্তরে অন্য এজেন্ডা লালন করে, তারা জাতিকে বিভক্ত করতে চাইলেও সফল হবে না। আগামীর বাংলাদেশ হবে ঐক্য ও সংহতির।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে মামুনুল হক ঘোষণা করেন, নির্বাচিত হলে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরে বাংলা নগর এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদে পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা যা করতে পারব, কেবল সেটুকুই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। রিকশা প্রতীক নিয়ে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব এবং ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে জয়ী হব।”
জনসভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব হাফেজ আকরাম হুসাইন নিজের কারাজীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, আল্লামা মামুনুল হক জুলুমের মুখেও অবিচল ছিলেন। তার ওপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা আমি সচক্ষে দেখেছি। এমন একজন সৎ ও সাহসী নেতাকে বিজয়ী করা সময়ের দাবি।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের শুরা সদস্য ডা. শফিউর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মানুষ বারবার উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখলেও বারবারই প্রতারিত হয়েছে। বিগত সরকার দেশের সার্বভৌমত্বকে সংকটাপন্ন করেছিল। সেই স্বাধীনতা রক্ষা ও নতুন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীকে বিজয়ী করার বিকল্প নেই।
১০ দলীয় নির্বাচনি লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় মাওলানা নাঈমুল হক আজিজি, মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা আল আবিদ শাকিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইনসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা ঢাকা-১৩ আসনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং রিকশা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















