ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জিন্স-কেডস পরে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার শুরু, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান গত বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এই প্রচারণার সূচনাপর্বে তাঁর পোশাক ছিল বেশ ভিন্নধর্মী – সাদা শার্ট, নীল জিন্স প্যান্ট এবং কেডস। এই ক্যাজুয়াল ও আধুনিক পোশাকের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেকে তুলে ধরেছেন, তেমনি দেশের নির্বাচনী প্রচারণার গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এক নতুনত্বের সূচনা করেছেন।

সিলেট সফরকালে তারেক রহমান তাঁর প্রয়াত পিতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার ঠিক আগের দিন তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) এবং হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে দোয়া কামনা করেন। এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রীতি পালনের মাধ্যমে তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের নির্বাচনী প্রচারণার ধারাকেই বজায় রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সিলেট শহরের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং পারিবারিক কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তাঁর সম্মানে ঐতিহ্যবাহী ‘আখনি’ (মোরগ পোলাও) রান্না করা হয়, যা প্রায় ১২ হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তিনি একটি কেক কাটেন এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁকে কেক খাইয়ে দেন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তাঁর আগমনকালে নেতাকর্মীরা ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সিলেটেই বিয়ে করেছেন এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়াল অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা।

দিনের শুরুতে তারেক রহমান ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি নীতি সংলাপে অংশ নেন। সিলেটের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মতবিনিময় করেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন। পরিবেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসের কারণেই সিলেটসহ সারাদেশে পাখির সংখ্যা কমে গেছে। তিনি বনভূমি বৃদ্ধি, নদী ও হাওর-বাওর রক্ষা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তিনি তাঁর ২৩ মিনিটের বক্তৃতায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর বক্তৃতায় তিনি ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই বার্তা দেন এবং বিএনপিকে বাংলাদেশের দল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ধানের শীষকে সমৃদ্ধি ও জনগণের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘ভোট দেবেন কীসে, ধানের শীষে’, ‘লাগারে লাগা, ধান লাগা’, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক’, ‘নবীন-প্রবীণ মিলে মিশে, ভোট দেব ধানের শীষে’ এবং ‘ভোট দিলে ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে’ – এই ধরনের বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলে।

সিলেটে কর্মসূচি শেষ করে তিনি সড়কপথে মৌলভীবাজার, শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল সময়ে উইকেট পতনই হারের মূল কারণ, স্বীকারোক্তি নিক কেলির

জিন্স-কেডস পরে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার শুরু, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান গত বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এই প্রচারণার সূচনাপর্বে তাঁর পোশাক ছিল বেশ ভিন্নধর্মী – সাদা শার্ট, নীল জিন্স প্যান্ট এবং কেডস। এই ক্যাজুয়াল ও আধুনিক পোশাকের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেকে তুলে ধরেছেন, তেমনি দেশের নির্বাচনী প্রচারণার গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এক নতুনত্বের সূচনা করেছেন।

সিলেট সফরকালে তারেক রহমান তাঁর প্রয়াত পিতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার ঠিক আগের দিন তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) এবং হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে দোয়া কামনা করেন। এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রীতি পালনের মাধ্যমে তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের নির্বাচনী প্রচারণার ধারাকেই বজায় রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সিলেট শহরের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং পারিবারিক কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তাঁর সম্মানে ঐতিহ্যবাহী ‘আখনি’ (মোরগ পোলাও) রান্না করা হয়, যা প্রায় ১২ হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তিনি একটি কেক কাটেন এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁকে কেক খাইয়ে দেন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তাঁর আগমনকালে নেতাকর্মীরা ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সিলেটেই বিয়ে করেছেন এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়াল অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা।

দিনের শুরুতে তারেক রহমান ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি নীতি সংলাপে অংশ নেন। সিলেটের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মতবিনিময় করেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন। পরিবেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসের কারণেই সিলেটসহ সারাদেশে পাখির সংখ্যা কমে গেছে। তিনি বনভূমি বৃদ্ধি, নদী ও হাওর-বাওর রক্ষা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তিনি তাঁর ২৩ মিনিটের বক্তৃতায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর বক্তৃতায় তিনি ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই বার্তা দেন এবং বিএনপিকে বাংলাদেশের দল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ধানের শীষকে সমৃদ্ধি ও জনগণের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘ভোট দেবেন কীসে, ধানের শীষে’, ‘লাগারে লাগা, ধান লাগা’, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক’, ‘নবীন-প্রবীণ মিলে মিশে, ভোট দেব ধানের শীষে’ এবং ‘ভোট দিলে ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে’ – এই ধরনের বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলে।

সিলেটে কর্মসূচি শেষ করে তিনি সড়কপথে মৌলভীবাজার, শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।