সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এখন থেকে দেশের সাধারণ নাগরিকরা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে তাকে তাদের মূল্যবান মতামত, অভিযোগ, প্রত্যাশা ও পরামর্শ সরাসরি জানাতে পারবেন। তৃণমূলের কণ্ঠস্বর শোনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
ড. মাহদী আমিন জানান, তারেক রহমান জনসম্পৃক্ততা ও জনমত তৈরির মাধ্যমে দলের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে চান। ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে যে নীতিমালা তৈরি হচ্ছে, সেখানে দেশের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
তিনি পাঁচটি পদ্ধতি তুলে ধরেন:
প্রথমত, সারাদেশে পোস্টার ও ড্যাংলারের মাধ্যমে একটি বিশেষ কিউআর কোড (QR code) ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি এই কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার চিন্তা, মতামত ও পরামর্শ সরাসরি তারেক রহমানকে জানাতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, ‘লেটার টু তারেক রহমান’ (Letter to Tarique Rahman) উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও পরামর্শ চিঠির মাধ্যমে সরাসরি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হওয়া উচিত, মানুষের চোখে চারপাশের সমস্যাগুলো কী এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান কী হতে পারে—এসব বিষয়ে চিঠি লিখে, নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মতামত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। গুলশান-২-এর একটি নির্ধারিত ঠিকানায় (হাউজ-১০সি, রোড-৯০) চিঠি পাঠানো যাবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও মতামত জানানো যাবে।
তৃতীয়ত, ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ (Match My Policy) নামে একটি সোয়াইপ-ভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। এর ইন্টারফেস অত্যন্ত সহজ ও পরিচিত। জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের মতামতকে গুরুত্ব দিতেই বিএনপির এই পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি মানুষ বিএনপির বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন।
চতুর্থত, ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ (The Plan: Youth Policy Talk with Tarique Rahman) প্রক্রিয়ায় তিনি তরুণদের সঙ্গে কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা বিষয়ে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতে সিলেট সফরে ১৯টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১২৭ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেছেন। তারেক রহমান তরুণদের প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও যুব ক্ষমতায়ন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
পঞ্চমত, ‘বিএনপির আট লিফলেট’ (BNP’s Eight Leaflets) তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সেক্টরে বিএনপির ভিশন তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে কূটনীতিকরা উপস্থিত হয়ে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো পর্যালোচনা করেন। খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, পরবর্তীতে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত ৩১ দফার ধারাবাহিকতায় প্রতিটি সেক্টরে দলের নেতার সুনির্দিষ্ট ও সুবিস্তৃত রূপকল্প রয়েছে।
ড. মাহদী আমিন আরও বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের চিন্তাভাবনা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের দেওয়া মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করবে।
রিপোর্টারের নাম 





















