ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পলাতক এনজিও মালিকের গ্রেপ্তার ও অর্থ ফেরতের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বাছেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের একটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রাহকরা পলাতক বাচ্চুকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং নিরীহদের হয়রানি বন্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুম। তিনি জানান, পলাতক এনজিও মালিক আব্দুল বাছেদ বাচ্চু দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয়দের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এনজিও পরিচালনা করে আসছিলেন। বাচ্চু তার বোনের স্বামী হওয়ায় মাসুম, তার মা ও বাবাকে নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন মাসুম। ২০২২ সালে তার বোন মারা যাওয়ার পর থেকেই আব্দুল বাছেদ বাচ্চু গ্রাহকদের সকল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।

মাসুম আরও বলেন, এনজিও মালিক বাচ্চু পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে তার সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এদিকে, ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আব্দুল বাছেদ বাচ্চু ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এর পর থেকেই জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান, মো. সোহেল ও জসিম এবং ম্যানেজার খুরশেদ আলম ও মো. সেফাউল মিলে গ্রাহকের পাওনা টাকা গোপনে উত্তোলন করে নিয়েছেন।

নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুম অভিযোগ করেন, এসব অসাধু কর্মীরা টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি তাদের পরিবারের নামে ১২টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকলেও তাদের মামলায় আসামী করা হয়েছে। মাসুম আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হবে। তিনি গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা পলাতক আব্দুল বাছেদ বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করে টাকা ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এনজিওর নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুম, তার বাবা মোশাররফ হোসেন, মা মানেরা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বাছেদ বাচ্চুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সংযম অবলম্বনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পলাতক এনজিও মালিকের গ্রেপ্তার ও অর্থ ফেরতের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:০০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বাছেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের একটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রাহকরা পলাতক বাচ্চুকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং নিরীহদের হয়রানি বন্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুম। তিনি জানান, পলাতক এনজিও মালিক আব্দুল বাছেদ বাচ্চু দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয়দের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এনজিও পরিচালনা করে আসছিলেন। বাচ্চু তার বোনের স্বামী হওয়ায় মাসুম, তার মা ও বাবাকে নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন মাসুম। ২০২২ সালে তার বোন মারা যাওয়ার পর থেকেই আব্দুল বাছেদ বাচ্চু গ্রাহকদের সকল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।

মাসুম আরও বলেন, এনজিও মালিক বাচ্চু পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে তার সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এদিকে, ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আব্দুল বাছেদ বাচ্চু ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এর পর থেকেই জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান, মো. সোহেল ও জসিম এবং ম্যানেজার খুরশেদ আলম ও মো. সেফাউল মিলে গ্রাহকের পাওনা টাকা গোপনে উত্তোলন করে নিয়েছেন।

নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুম অভিযোগ করেন, এসব অসাধু কর্মীরা টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি তাদের পরিবারের নামে ১২টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকলেও তাদের মামলায় আসামী করা হয়েছে। মাসুম আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হবে। তিনি গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা পলাতক আব্দুল বাছেদ বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করে টাকা ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এনজিওর নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাসুম, তার বাবা মোশাররফ হোসেন, মা মানেরা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জয়ীতা কনজুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বাছেদ বাচ্চুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।