ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

দেড় দশকের আড়ষ্টতা ভেঙে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু নির্বাচনী প্রচার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গত দেড় দশকের একতরফা নির্বাচনের আড়ষ্টতা কাটিয়ে ভোটের উৎসবে ফিরছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রার্থীরা আজ থেকেই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন, যেখানে বড় দলগুলোর কর্মসূচিতে থাকছে বিশেষ চমক।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার ২৯৮টি সংসদীয় আসনে (পাবনা-১ ও ২ বাদে) চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। এই প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই চমক দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। একই ধারায়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন। দলটি আধুনিক ও ইনসাফ কায়েমের স্লোগান নিয়ে ভোটারদের কাছে যাবে বলে জানিয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের ২১ দিন আগে সব ধরনের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, অনেক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তা মানেননি। তবে, মূল প্রচার শুরুর পর নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিধি ভেঙে আগাম প্রচার চালানোয় ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থীকে শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি সক্রিয়ভাবে তদারকি করছে, যাতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সুপারিশে কমিশন গতকাল পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৭৫ জনকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে এবং সাতজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল করে জরিমানা আদায় করেছে। এর মধ্যে পাবনা-৫ আসনে একজনকে ১০ হাজার টাকা, দুজনকে ৫ হাজার টাকা করে এবং একজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে, খুলনা-২ আসনে দুজনকে এক হাজার টাকা করে এবং রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পটিয়া) আসনে একজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কমিশন দৃঢ়তার সঙ্গে বলছে, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে, নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যারা এতদিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, কমিশন চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারতো। শোকজ নোটিস ও জেল-জরিমানার মধ্যে শাস্তি সীমাবদ্ধ থাকাটা হতাশাজনক। তারা আশঙ্কা করছেন, আজ থেকে মূল প্রচার শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং অতীতের মতো ঢিলেঢালা মনোভাব দেখালে ইসির পক্ষে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। এর বিপরীতে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিগত ১৫ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের তেমন আগ্রহ ছিল না। একতরফা নির্বাচনের কারণে প্রচার চলত মূলত নিজেদের (ক্ষমতাসীন দল বনাম বিদ্রোহী) মধ্যেই। তবে, এবার বিএনপি, জামায়াতসহ রেকর্ড ৪৯টি দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে নামায় নির্বাচনী ময়দানে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রার্থীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এর বিপরীতে, আওয়ামী লীগসহ সমমনা ১১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে।

ইসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, অর্থাৎ প্রতিটি আসনে গড়ে প্রায় সাতজন প্রার্থী লড়াই করছেন। কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই। ৫১টি রাজনৈতিক দলের ১৭৩২ জন প্রার্থীর সঙ্গে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৯৮১। দলভিত্তিক প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি ২৮৮ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪ জন এবং জাতীয় পার্টি-জাপা ১৯২ জন প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়াও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাকের পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

ইসির তথ্যানুসারে, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৭১৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৮৯টি, যার মধ্যে ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষের সংখ্যা যথাক্রমে ২,৪৭,৪৮২টি এবং ৪,৩১,২০৮টি (গণভোটের কারণে গোপন কক্ষ ১,৮৩,৭২৬টি বৃদ্ধি পেয়েছে)। তফসিল পরবর্তী এই সময়টিকে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি প্রচার শেষ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে রেকর্ডসংখ্যক ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক ৮১টি সংস্থার অধীনে কাজ করবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর থাকছে এ নির্বাচনের ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আইআরআই ও এনডিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার ১৮৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবার সক্রিয় থাকছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে এসেছেন ৮৩ জন বিদেশি প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে ৪৭ জনই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

দেড় দশকের আড়ষ্টতা ভেঙে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু নির্বাচনী প্রচার

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গত দেড় দশকের একতরফা নির্বাচনের আড়ষ্টতা কাটিয়ে ভোটের উৎসবে ফিরছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রার্থীরা আজ থেকেই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন, যেখানে বড় দলগুলোর কর্মসূচিতে থাকছে বিশেষ চমক।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার ২৯৮টি সংসদীয় আসনে (পাবনা-১ ও ২ বাদে) চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। এই প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই চমক দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। একই ধারায়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন। দলটি আধুনিক ও ইনসাফ কায়েমের স্লোগান নিয়ে ভোটারদের কাছে যাবে বলে জানিয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের ২১ দিন আগে সব ধরনের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, অনেক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তা মানেননি। তবে, মূল প্রচার শুরুর পর নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিধি ভেঙে আগাম প্রচার চালানোয় ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থীকে শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি সক্রিয়ভাবে তদারকি করছে, যাতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সুপারিশে কমিশন গতকাল পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৭৫ জনকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে এবং সাতজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল করে জরিমানা আদায় করেছে। এর মধ্যে পাবনা-৫ আসনে একজনকে ১০ হাজার টাকা, দুজনকে ৫ হাজার টাকা করে এবং একজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে, খুলনা-২ আসনে দুজনকে এক হাজার টাকা করে এবং রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পটিয়া) আসনে একজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কমিশন দৃঢ়তার সঙ্গে বলছে, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে, নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যারা এতদিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, কমিশন চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারতো। শোকজ নোটিস ও জেল-জরিমানার মধ্যে শাস্তি সীমাবদ্ধ থাকাটা হতাশাজনক। তারা আশঙ্কা করছেন, আজ থেকে মূল প্রচার শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং অতীতের মতো ঢিলেঢালা মনোভাব দেখালে ইসির পক্ষে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। এর বিপরীতে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিগত ১৫ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের তেমন আগ্রহ ছিল না। একতরফা নির্বাচনের কারণে প্রচার চলত মূলত নিজেদের (ক্ষমতাসীন দল বনাম বিদ্রোহী) মধ্যেই। তবে, এবার বিএনপি, জামায়াতসহ রেকর্ড ৪৯টি দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে নামায় নির্বাচনী ময়দানে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রার্থীদের বিপুল অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এর বিপরীতে, আওয়ামী লীগসহ সমমনা ১১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে।

ইসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, অর্থাৎ প্রতিটি আসনে গড়ে প্রায় সাতজন প্রার্থী লড়াই করছেন। কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই। ৫১টি রাজনৈতিক দলের ১৭৩২ জন প্রার্থীর সঙ্গে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৯৮১। দলভিত্তিক প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি ২৮৮ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪ জন এবং জাতীয় পার্টি-জাপা ১৯২ জন প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়াও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাকের পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

ইসির তথ্যানুসারে, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৭১৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৮৯টি, যার মধ্যে ১৩টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ ও গোপন কক্ষের সংখ্যা যথাক্রমে ২,৪৭,৪৮২টি এবং ৪,৩১,২০৮টি (গণভোটের কারণে গোপন কক্ষ ১,৮৩,৭২৬টি বৃদ্ধি পেয়েছে)। তফসিল পরবর্তী এই সময়টিকে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি প্রচার শেষ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে রেকর্ডসংখ্যক ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক ৮১টি সংস্থার অধীনে কাজ করবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর থাকছে এ নির্বাচনের ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আইআরআই ও এনডিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার ১৮৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবার সক্রিয় থাকছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে এসেছেন ৮৩ জন বিদেশি প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে ৪৭ জনই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক।