আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট এখন পুরোপুরি স্পষ্ট। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষে দেশের ২৯৮টি সংসদীয় আসনে সর্বমোট ১ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চূড়ান্ত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে বুধবার এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে পুন:তফসিল হওয়ার কারণে পাবনা-১ ও ২ আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
ইসির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে আসনভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে ঢাকা ও পিরোজপুরে। রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মূল আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ‘তিন সাইফুল’। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনে একটি বহুমুখী ও তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এখানে চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকে আছেন মাত্র দুজন প্রার্থী। তারা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী এবং বিএনপির আলমগীর হোসেন। প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র দুজন হওয়ায় এখানে সরাসরি দ্বিমুখী এক তুমুল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এছাড়া খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে ১২ জন করে প্রার্থী লড়ছেন। ১১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-৫, ৭, ১১, ১৬, ১৭ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও খাগড়াছড়ি আসনে। ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, টাঙ্গাইল-৪, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১ ও ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬ এবং চট্টগ্রাম-৯ ও ১১ আসনে।
এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদেরও বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ১০ জন এবং বগুড়া-৬ আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করবেন। অন্যান্য হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন। ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন প্রার্থী, যার মধ্যে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্যতম। এছাড়া চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১০ জন, ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হক, ঢাকা-১ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বরিশাল-৫ আসনে মুফতি ফয়জুল করীম নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করবেন।
এদিকে, আইনি জটিলতা ও ঋণখেলাপির দায়ে বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর জন্য পথ অনেকটা সহজ হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ এবং কুমিল্লা-১০ আসনেও বিএনপির প্রার্থীদের আবেদন টেকেনি, যার ফলে এসব আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে একটি উৎসবমুখর ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
রিপোর্টারের নাম 















