ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আইসিসিকে ক্রীড়া উপদেষ্টার কড়া বার্তা

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতের ওপর আইসিসির সম্ভাব্য চাপ বা শর্তকে সটান প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না। বিশেষ করে নিরাপত্তার যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি জানিয়েছে, তা পূরণ না হলে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, যখন ভারত পাকিস্তানে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় তখন আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন একই নীতি অনুসরণ করা হবে না তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে যে, বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে উপদেষ্টা জানান যে, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই এবং ক্রিকেট স্কটল্যান্ডও বিসিবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

মূলত ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে সম্প্রতি বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। নিরাপত্তার এই শঙ্কা থেকেই বিসিবি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। চলতি সপ্তাহে ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবির বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। যদিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে আইসিসি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তবে বিসিবি তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টার এই কড়া বার্তার পর এখন দেখার বিষয় আইসিসি এই সংকটের সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়। নিজেদের সম্মান ও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না বলে সরকার ও বিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাক্তন মন্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের পর: ইরানে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আইসিসিকে ক্রীড়া উপদেষ্টার কড়া বার্তা

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতের ওপর আইসিসির সম্ভাব্য চাপ বা শর্তকে সটান প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা যাবে না। বিশেষ করে নিরাপত্তার যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি জানিয়েছে, তা পূরণ না হলে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, যখন ভারত পাকিস্তানে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় তখন আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন একই নীতি অনুসরণ করা হবে না তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে যে, বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে উপদেষ্টা জানান যে, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই এবং ক্রিকেট স্কটল্যান্ডও বিসিবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

মূলত ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে সম্প্রতি বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। নিরাপত্তার এই শঙ্কা থেকেই বিসিবি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। চলতি সপ্তাহে ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবির বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। যদিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে যে আইসিসি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তবে বিসিবি তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টার এই কড়া বার্তার পর এখন দেখার বিষয় আইসিসি এই সংকটের সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়। নিজেদের সম্মান ও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না বলে সরকার ও বিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।