ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও বিচারকাজে বাধা: রুমিন ফারহানাকে ব্যাখ্যা তলব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দল থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদর্শন এবং বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এই নোটিশে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে অথবা তার পূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান না করলে তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে একটি বড় মঞ্চ তৈরি করে প্রায় ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে নির্বাচনি জনসভা করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি মাইকযোগে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন, যা নির্বাচন আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের শামিল। ঘটনার সময় সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছিলেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই নির্দেশের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রুমিন ফারহানা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, “আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।” এ সময় তার কিছু কর্মীও মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নোটিশে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এভাবে জনসমাগম ঘটিয়ে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনাটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে এবং এটি জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রিকেট ভক্তদের জন্য সুখবর: টি-টোয়েন্টি ও দ্য হান্ড্রেডের সরাসরি সম্প্রচার

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও বিচারকাজে বাধা: রুমিন ফারহানাকে ব্যাখ্যা তলব

আপডেট সময় : ১০:০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দল থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদর্শন এবং বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এই নোটিশে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে অথবা তার পূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান না করলে তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে একটি বড় মঞ্চ তৈরি করে প্রায় ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে নির্বাচনি জনসভা করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি মাইকযোগে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন, যা নির্বাচন আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের শামিল। ঘটনার সময় সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছিলেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই নির্দেশের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রুমিন ফারহানা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, “আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।” এ সময় তার কিছু কর্মীও মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নোটিশে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এভাবে জনসমাগম ঘটিয়ে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনাটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে এবং এটি জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।