ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনা দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে, চূড়ান্তভাবে একজনই ধানের শীষ প্রতীক পাবেন এবং তিনিই হবেন এই আসনের মূল প্রার্থী। অন্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাবেক সংসদ সদস্য ড. মুশফিকুর রহমানকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে, গত ২০ ডিসেম্বর দলের আরেক নেতা কবীর আহমেদ ভূইয়াকে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। গত ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের পর এই দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে দুজনেই সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের দাবি করছেন এবং তাদের সমর্থকরাও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তবে, দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা কার পক্ষে কাজ করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
কসবা উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফকরুউদ্দিন আহাম্মেদ খান জানান, যারা বিগত দিনে মাঠ পর্যায়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জেল-জুলুম ও গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতার বিষয়টি বিবেচনা করার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কবীর আহাম্মেদ ভূঁইয়া বিগত সরকারের সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং বিগত ১৭ বছর ধরে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। তাই, তারা শতভাগ আশাবাদী যে কবীর আহাম্মেদ ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন জানান, দলের হাইকমান্ড থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রথমে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের মনোনয়নপত্রই চূড়ান্ত। সে অনুযায়ী, মুশফিকুর রহমানের ধানের শীষ প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপি সদস্য এবং দ্বিতীয় ধাপে দলটির মনোনীত প্রার্থী কবীর আহমেদ ভূইয়া বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে নিপীড়িত কর্মীদের পাশে ছিলাম। দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। অগণিত নেতাকর্মী দলের হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। ধানের শীষের প্রতীক আমি পাব, এমনটাই বিশ্বাস করছি।’
অপরদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আপৎকালীন সময়ের জন্য একটি বিকল্প মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। যদি আমার কিছু হয়ে যেত বা মনোনয়ন বাতিল হয়ে যেত, তবে তিনি হয়তো প্রতীক পেতেন। এখন যেহেতু আমার মনোনয়নপত্রটি বৈধ হয়েছে, প্রতীক আমিই পাব।’
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতীক বরাদ্দের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা স্পষ্ট হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















