ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

মমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেল শত শত প্রাণ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন নয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে লাগা এই আগুনে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় পুরো ওয়ার্ড আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডগুলোতে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৯টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার কর্মীরা।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, আগুন লাগার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ষষ্ঠ তলার আসবাবপত্র রাখার স্টোর রুমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জীবন বাঁচাতে অসুস্থ শিশুদের কোলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী এক অভিভাবক জানান, চারদিকে ধোঁয়া দেখে তিনি তার অক্সিজেন মাস্ক পরা সন্তানকে নিয়েই নিচে দৌড়ে নামেন। সিঁড়িতে মানুষের ভিড় ও চাপে শিশুদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। আতঙ্কের কারণে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের হাসপাতাল ছেড়ে বেসরকারি ক্লিনিকে আশ্রয় নিতেও দেখা গেছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক (চিকিৎসা) ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘আগুনের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ইমারজেন্সি গেট দিয়ে রোগীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছিল।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, ষষ্ঠ তলায় শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও হৃদরোগসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রয়েছে। আগুন লাগার সাথে সাথেই সব বিভাগের রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার

মমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড: অল্পের জন্য রক্ষা পেল শত শত প্রাণ

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন নয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে লাগা এই আগুনে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় পুরো ওয়ার্ড আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডগুলোতে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৯টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার কর্মীরা।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, আগুন লাগার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ষষ্ঠ তলার আসবাবপত্র রাখার স্টোর রুমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জীবন বাঁচাতে অসুস্থ শিশুদের কোলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী এক অভিভাবক জানান, চারদিকে ধোঁয়া দেখে তিনি তার অক্সিজেন মাস্ক পরা সন্তানকে নিয়েই নিচে দৌড়ে নামেন। সিঁড়িতে মানুষের ভিড় ও চাপে শিশুদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। আতঙ্কের কারণে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের হাসপাতাল ছেড়ে বেসরকারি ক্লিনিকে আশ্রয় নিতেও দেখা গেছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক (চিকিৎসা) ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘আগুনের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ইমারজেন্সি গেট দিয়ে রোগীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছিল।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, ষষ্ঠ তলায় শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও হৃদরোগসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রয়েছে। আগুন লাগার সাথে সাথেই সব বিভাগের রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।