প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের তোয়াক্কা না করেই লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটিখেকো চক্র। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি এবং সৃষ্টি হচ্ছে বিশাল গর্ত, যা বর্ষা মৌসুমে স্থায়ী জলাশয়ে পরিণত হয়ে কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও থামছে না এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। মূলত রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন ও ট্রাক ব্যবহার করে আবাদি জমির বুক চিরে মাটি সাবাড় করা হচ্ছে। এক সময়ের সোনালি ফসল আমন ও বোরোর মাঠগুলো এখন ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর খাদে রূপ নিয়েছে। ফলে ওইসব জমিতে পুনরায় চাষাবাদের আর কোনো সম্ভাবনা থাকছে না।
মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত শত শত ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের দাপটে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। অনভিজ্ঞ চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এসব লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি উড়ন্ত ধুলোবালিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া মোল্লাকান্দি বিলে অবস্থিত মন্তাজ ব্রিকফিল্ডে গত এক সপ্তাহ ধরে বিরামহীনভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। দুটি শক্তিশালী ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ওই বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বিশাল মরণকূপে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে এই মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক কৃষককে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইটভাটার ব্যবস্থাপক মো. তৌয়ব জানান, ইট তৈরির জন্য মাটির প্রয়োজন হয় এবং তারা স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই তা সংগ্রহ করেন। তবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গর্তের বিষয়ে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই এসব জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে।
মাটি কাটার এই মহোৎসব বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই দিন-রাত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মোটা অংকের জরিমানা এবং একাধিক যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে এই অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে, তবে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 
























