ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকট এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের বিনিময়ে নিজেদের আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। গাজায় চলমান সংঘাত এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার তীব্রতা বৃদ্ধির পর এই মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি বেথলেহেমের একজন ফিলিস্তিনি মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পোস্টে লিখেছেন, ‘এক বোতল জলপাই তেল আর এক কেজি জা’আতারের বিনিময়ে বাসনপত্র—যাতে আমার বাচ্চারা স্কুলে কিছু নিয়ে যেতে পারে।’ এই ধরনের ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। অনেক নারীই এখন আসবাবপত্র, খেলনা, রান্নার সামগ্রী এমনকি সন্তানদের পোশাক পর্যন্ত মৌলিক খাদ্যের বিনিময়ে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম সাধারণ খাবার হিসেবে পরিচিত জলপাই তেল ও জা’আতার এখন চরম দারিদ্র্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে—‘সে তেল আর জা’আতারের ওপর বেঁচে আছে’—যা দিয়ে আগে জীবনধারণের সাধারণ অবস্থাকে বোঝানো হতো। কিন্তু বর্তমানে এই প্রবাদটি এক ভয়াবহ বাস্তবের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে এই দুটি খাবার সংগ্রহ করাই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে, মানুষের আয় কমে গেছে এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষ এক নজিরবিহীন মানবিক সংকটের মুখোমুখি।
রিপোর্টারের নাম 























