ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাসপাতাল অঙ্গন। কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। তিনি জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার। তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ছিল চিকিৎসায় অবহেলা, অন্যদিকে চিকিৎসকদের দাবি— বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের প্রতিনিধিরা জানান, তাদের দেওয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিগুলো দৃশ্যমানভাবে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে মিড লেভেলের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতেই তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই এলাকার জাবেদ মিয়া (৩০)।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আটককৃতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির আরও জানান, তারা আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন করে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা সচল করার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

আপডেট সময় : ০৫:১০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাসপাতাল অঙ্গন। কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। তিনি জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার। তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ছিল চিকিৎসায় অবহেলা, অন্যদিকে চিকিৎসকদের দাবি— বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের প্রতিনিধিরা জানান, তাদের দেওয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিগুলো দৃশ্যমানভাবে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে মিড লেভেলের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতেই তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই এলাকার জাবেদ মিয়া (৩০)।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আটককৃতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির আরও জানান, তারা আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন করে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা সচল করার চেষ্টা চলছে।