নীল নদের পানি বণ্টন নিয়ে মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে পুনরায় মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নীল নদের পানির স্থায়ী ও সুষ্ঠু বণ্টনের লক্ষ্যে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে পুনরায় আলোচনার সূত্রপাত এবং মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
মূলত নীল নদের উজানে ইথিওপিয়ার বিতর্কিত বিশাল বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করেই এই সংকটের সূত্রপাত। গত ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’ (জিইআরডি) প্রকল্পের উদ্বোধন করে। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনাটি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে মিশর।
১২০ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়া তাদের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য এই বাঁধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। দেশটির দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অন্যদিকে, নীল নদের পানির ওপর নির্ভরশীল দেশ মিশর এই বাঁধকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। কায়রোর অভিযোগ, এই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে। মিশরের আশঙ্কা, বাঁধের কারণে নীল নদের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে দেশটিতে ভয়াবহ খরা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ইথিওপিয়া শুরু থেকেই মিশরের এমন দাবি ও উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো টেকসই সমাধান আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন মধ্যস্থতার প্রস্তাব আফ্রিকার এই দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 























