ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ: অপসারণে লাগবে ৭ বছর, অব্যাহত হামলা ও শান্তি উদ্যোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি টনে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করতে সাত বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। এমন ভয়াবহ মানবিক সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য একটি নতুন শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও সংস্থাটির প্রজেক্ট সার্ভিস অফিসের (ইউএনওপিএস) নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দ্য সিলভা এক বিবৃতিতে গাজার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেখানকার মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং গাজাবাসী চরম ক্লান্ত, আতঙ্কগ্রস্ত ও বিপুল চাপের মধ্যে রয়েছেন। তীব্র শীত ও ভারী বৃষ্টি তাদের দুর্ভোগ ও হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মোরেইরা দ্য সিলভা বলেন, গাজায় বর্তমানে ছয় কোটি টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ জমেছে। এই পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ধারণ করতে অন্তত তিন হাজার কনটেইনার জাহাজের প্রয়োজন হবে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রতি ব্যক্তিকে ঘিরে গড়ে ৩০ টন ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে আছে, যা সরাতে কমপক্ষে সাত বছরের বেশি সময় লাগবে।

যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই দিনে উত্তর গাজার বাইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছর বয়সী এক মেয়েশিশু।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অব্যাহত হামলায় এ পর্যন্ত ৪৬৩ জন নিহত, ১ হাজার ২৬৯ জন আহত হয়েছেন এবং ৭১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুই বছরের বেশি সময়ের আগ্রাসনে গাজায় মোট ৭১ হাজার ৪৫৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গাজায় শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, যুদ্ধপরবর্তী গাজার পরিস্থিতি তদারকি এবং অঞ্চলটি শাসনে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির তত্ত্বাবধানের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ সদস্যদের নির্বাচন করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের নাম ঘোষণা করা হবে।

অপর এক পোস্টে ট্রাম্প ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী হামাসকে অবিলম্বে নিরস্ত্র হওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, হামাসের উচিত তাদের অঙ্গীকারকে সম্মান জানানো। এর মধ্যে ইসরায়েলে সর্বশেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়া এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এটি তারা সহজ পন্থায়ও করতে পারে অথবা কঠিন পন্থায়ও।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে শর্তানুযায়ী গাজা থেকে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হলেও, একটি জিম্মির মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। তবে ইসরায়েল তাদের নির্ধারিত শর্তানুযায়ী হামলা বন্ধ করেনি এবং যথেষ্ট ত্রাণ সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে। শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি করা হচ্ছে। তবে গাজা ইসরায়েলের দখলে থাকাবস্থায় অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকার করছেন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৮ দিন পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

গাজায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ: অপসারণে লাগবে ৭ বছর, অব্যাহত হামলা ও শান্তি উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি টনে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করতে সাত বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। এমন ভয়াবহ মানবিক সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য একটি নতুন শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ও সংস্থাটির প্রজেক্ট সার্ভিস অফিসের (ইউএনওপিএস) নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দ্য সিলভা এক বিবৃতিতে গাজার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেখানকার মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং গাজাবাসী চরম ক্লান্ত, আতঙ্কগ্রস্ত ও বিপুল চাপের মধ্যে রয়েছেন। তীব্র শীত ও ভারী বৃষ্টি তাদের দুর্ভোগ ও হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মোরেইরা দ্য সিলভা বলেন, গাজায় বর্তমানে ছয় কোটি টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ জমেছে। এই পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ধারণ করতে অন্তত তিন হাজার কনটেইনার জাহাজের প্রয়োজন হবে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রতি ব্যক্তিকে ঘিরে গড়ে ৩০ টন ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে আছে, যা সরাতে কমপক্ষে সাত বছরের বেশি সময় লাগবে।

যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই দিনে উত্তর গাজার বাইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১০ বছর বয়সী এক মেয়েশিশু।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অব্যাহত হামলায় এ পর্যন্ত ৪৬৩ জন নিহত, ১ হাজার ২৬৯ জন আহত হয়েছেন এবং ৭১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুই বছরের বেশি সময়ের আগ্রাসনে গাজায় মোট ৭১ হাজার ৪৫৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গাজায় শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, যুদ্ধপরবর্তী গাজার পরিস্থিতি তদারকি এবং অঞ্চলটি শাসনে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির তত্ত্বাবধানের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ সদস্যদের নির্বাচন করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের নাম ঘোষণা করা হবে।

অপর এক পোস্টে ট্রাম্প ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী হামাসকে অবিলম্বে নিরস্ত্র হওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, হামাসের উচিত তাদের অঙ্গীকারকে সম্মান জানানো। এর মধ্যে ইসরায়েলে সর্বশেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়া এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এটি তারা সহজ পন্থায়ও করতে পারে অথবা কঠিন পন্থায়ও।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে শর্তানুযায়ী গাজা থেকে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হলেও, একটি জিম্মির মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। তবে ইসরায়েল তাদের নির্ধারিত শর্তানুযায়ী হামলা বন্ধ করেনি এবং যথেষ্ট ত্রাণ সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে। শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি করা হচ্ছে। তবে গাজা ইসরায়েলের দখলে থাকাবস্থায় অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকার করছেন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীরা।