ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ, আশাবাদী ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফুটবল বিশ্বের এই অভিভাবক মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও চলমান উন্নয়নের ধারা বজায় থাকলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা একদিন বিশ্বমঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন ইনফান্তিনো। এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, বাংলাদেশ অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলার সক্ষমতা রাখে। ফিফা সভাপতির মতে, ফুটবলের বিশ্বায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন দেশ যেন মূল পর্বে অংশ নিতে পারে, সেটিই ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী বিশ্বকাপগুলোতে নতুন অনেক দলের অভিষেক হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর উদীয়মান অগ্রযাত্রার উদাহরণ টানেন।

বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য এক উর্বর ভূমি। সেখানে বর্তমানে ফুটবলের যে উন্নয়ন হচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। ফিফা বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামো ও মানোন্নয়নে নিয়মিত বিনিয়োগ করছে।” তিনি আরও বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাদের সঠিক পরিচর্যা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে সক্ষম হবে।

এদিকে, সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির বাংলাদেশ সফর দেশের ফুটবলার ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও তরুণ তারকা শেখ মোরসালিনরা ট্রফিটি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বর্তমান ফুটবলারদের বিশ্বাস, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব ফুটবলের উচ্চতর আসনে অধিষ্ঠিত হবে।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার গৌরব অর্জন করলেও এরপর বড় কোনো আসরে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ও মেধাবী ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের ঘিরে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা স্বপ্ন দেখছেন এক নতুন উচ্চতার। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ সঠিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবে রূপ নেওয়াও সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ, আশাবাদী ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আপডেট সময় : ০৩:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফুটবল বিশ্বের এই অভিভাবক মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও চলমান উন্নয়নের ধারা বজায় থাকলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা একদিন বিশ্বমঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন ইনফান্তিনো। এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, বাংলাদেশ অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলার সক্ষমতা রাখে। ফিফা সভাপতির মতে, ফুটবলের বিশ্বায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন দেশ যেন মূল পর্বে অংশ নিতে পারে, সেটিই ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী বিশ্বকাপগুলোতে নতুন অনেক দলের অভিষেক হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর উদীয়মান অগ্রযাত্রার উদাহরণ টানেন।

বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য এক উর্বর ভূমি। সেখানে বর্তমানে ফুটবলের যে উন্নয়ন হচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। ফিফা বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামো ও মানোন্নয়নে নিয়মিত বিনিয়োগ করছে।” তিনি আরও বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাদের সঠিক পরিচর্যা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে সক্ষম হবে।

এদিকে, সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির বাংলাদেশ সফর দেশের ফুটবলার ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও তরুণ তারকা শেখ মোরসালিনরা ট্রফিটি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। দেশের বর্তমান ফুটবলারদের বিশ্বাস, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব ফুটবলের উচ্চতর আসনে অধিষ্ঠিত হবে।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার গৌরব অর্জন করলেও এরপর বড় কোনো আসরে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ও মেধাবী ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের ঘিরে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা স্বপ্ন দেখছেন এক নতুন উচ্চতার। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ সঠিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবে রূপ নেওয়াও সম্ভব।