২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না এবং বিদ্যমান মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি একে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এই বিশেষ দায়মুক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ বা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে করা কোনো হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কোনো ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল, তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। যদি কমিশন তদন্তে দেখে যে কোনো ঘটনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে ঘটেছে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আরও জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর নতুন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা প্রায় ২০ হাজার মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ যে কোনো পক্ষেই কথা বলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সরকার কাউকে প্রচারণায় বাধা দেবে না। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত এই সরকার জনকল্যাণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















