দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এখানকার তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত কয়েকদিন ধরেই এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই তীব্র শীতের কারণে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যদিও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, তবে উত্তরের হিমেল বাতাস এবং তীব্র শীত ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।
সকালে সূর্য উদিত হলেও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল আকাশ, যার ফলে রোদের উত্তাপ অনুভূত হয়নি বললেই চলে। চারদিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে, মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে পথ চলতে দেখা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত নানা রোগ, যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে, তেঁতুলিয়া হাসপাতালে মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রোগীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। অনেক মা ও শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া সদরের পাথর শ্রমিক আশরাফুল জানান, কনকনে শীতের মধ্যে মহানন্দা নদীর বরফশীতল পানিতে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এতে রাতেও হাত-পা থেকে ঠান্ডা যাচ্ছে না এবং হাঁটু ব্যথা সহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। তবুও, জীবনধারণের তাগিদে প্রতিদিন এই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কাজে যেতে হচ্ছে তাদের।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আজ সকালের রেকর্ডকৃত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং শৈত্যপ্রবাহ আরও কিছুদিন বিরাজ করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























