দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে নানা অভিযোগের তীর বিদ্ধ হওয়া নির্বাচন পদ্ধতির পর এবার রংপুর নির্বাচনী মাঠে ফিরছে এক নতুন আমেজ। ‘নতুন বাংলাদেশে’ একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন রংপুরের প্রায় ২৬ লাখ ভোটার। এই ভোটাররা আগামী জুলাইয়ে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে প্রস্তুত। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, সবখানেই এখন একটাই আলোচনা – রংপুর থেকে এবার সংসদে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী থেকে কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার নজির নেই। বিগত সময়ে এই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টি থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। তবে, সদ্য সমাপ্ত ‘জুলাই বিপ্লবের’ পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগের অনেক সংসদ সদস্য বর্তমানে কারাবন্দী অথবা আত্মগোপনে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও জনরোষের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচনী প্রচারণায় সরব হয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। বিএনপির প্রার্থীরা তারেক রহমানের ভাবমূর্তি এবং আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের উপর নির্ভর করে জয়ের আশা করছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও মাঠে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন, বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন তাদের ভরসার স্থল। জুলাই অভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এনপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেনও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জাতীয় পার্টিও পিছিয়ে নেই, তারাও ভোটের মাঠে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। তবে, ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট।
রংপুর ১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি করপোরেশন আংশিক):
এই আসনে বিএনপি থেকে টিকিট পেয়েছেন মোকাররম হোসেন সুজন, যিনি পূর্বে দল থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন। বর্তমানে বিভক্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি জয়ের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাওলানা রায়হান সিরাজী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়াও, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান সজিব, বাসদ (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন তিতু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মমিনুর রহমান এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আনাস।
রংপুর ২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ):
বিএনপি থেকে মোহাম্মদ আলী সরকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি পূর্বে জাতীয় পার্টিতে ছিলেন। তার মনোনয়ন প্রাপ্তিতে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ঝাড়ু ও মশাল মিছিল করেছেন। এই বিভক্তি সত্ত্বেও তাকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর কারাভোগের পর তিনি এখন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আনিসুল ইসলাম মণ্ডল। এই আসনে অন্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আজিজুর রহমান।
রিপোর্টারের নাম 
























