ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

রংপুরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, তদন্ত অব্যাহত

রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট নামক এক ধরনের রাসায়নিক পান করে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত তিন দিনে এই ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অভিজিত চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, মাদক ও হত্যা মামলার আসামি জয়নুল আবেদিন (৪৬) কারাগারের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।

এর আগে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (২৫) এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার রাশেদুল ইসলাম (৩২) নামে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে। বদরগঞ্জ উপজেলার কিশামত বসন্তপুর নয়া পাড়া গ্রামের মাদক কারবারি জয়নুল আবেদিনের বাড়িতে কিছু ব্যক্তি রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩০), পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া (২৮) এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। এছাড়াও আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজারে এলকোহল সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।

রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিট উদ্ধার করেছে।

রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, মাদক কারবারিরা স্থানীয় কিছু হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে এই রেকটিফায়েড স্পিরিট সংগ্রহ করে থাকে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে, এই ঘটনায় ১০ বোতল স্পিরিটসহ বিক্রেতা জয়নুল আবেদিনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

রংপুরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, তদন্ত অব্যাহত

আপডেট সময় : ১১:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট নামক এক ধরনের রাসায়নিক পান করে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত তিন দিনে এই ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অভিজিত চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, মাদক ও হত্যা মামলার আসামি জয়নুল আবেদিন (৪৬) কারাগারের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।

এর আগে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (২৫) এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার রাশেদুল ইসলাম (৩২) নামে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে। বদরগঞ্জ উপজেলার কিশামত বসন্তপুর নয়া পাড়া গ্রামের মাদক কারবারি জয়নুল আবেদিনের বাড়িতে কিছু ব্যক্তি রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩০), পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া (২৮) এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। এছাড়াও আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজারে এলকোহল সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।

রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিট উদ্ধার করেছে।

রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, মাদক কারবারিরা স্থানীয় কিছু হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে এই রেকটিফায়েড স্পিরিট সংগ্রহ করে থাকে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে, এই ঘটনায় ১০ বোতল স্পিরিটসহ বিক্রেতা জয়নুল আবেদিনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।