কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত সাত বছর বয়সী শিশু আফনানের অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। গত রোববার বিকেলে শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর রাতেই তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, শিশুটির মাথায় গুলি লাগায় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। রাতেই সিটি স্ক্যান করার পর জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে পুনরায় সিটি স্ক্যান করে পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত শনিবার রাত থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। রোববার সকালে এই সংঘর্ষের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় এবং গোলাগুলি সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘাতের এক পর্যায়ে মিয়ানমারের দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের বসতঘরে এসে লাগে। এ সময় ঘরে থাকা তার শিশু কন্যা আফনান মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
এদিকে, রোববার সকালে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও পরবর্তীতে জানানো হয় যে, শিশুটি জীবিত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















