নওগাঁয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির অভিযোগে দুই হোতাসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার জেলার ৩৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র ও বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা পরীক্ষার্থীদের কাছে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তিতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার প্রলোভন দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, আধুনিক ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস এবং নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের আহসান হাবিব (৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের মামুনুর রশিদকে (৪১)।
মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁ শহরের পোরশা রেস্ট নামক একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। ওই হোটেলের ১১ নম্বর কক্ষ থেকে প্রশ্নফাঁসের হোতা আহসান হাবিব, তার সহযোগী মামুনুর রশিদ এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুর ও তার বাবা ফারাজুলকে আটক করা হয়। আহসান হাবিবের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্রের নমুনা পাওয়া যায়। একই হোটেলের অন্যান্য কক্ষে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন ও হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়, যাদের মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। এছাড়া, সারোয়ার এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থী আবু সাঈদকেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবিব স্বীকার করে যে, তারা প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা চুক্তিতে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছিল। এরই মধ্যে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান ও ফারুক হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুরের বাবা ফারাজুলের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শহরের হোটেল নীলসাগরে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী রেহান জান্নাতকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে রেহান জান্নাত জানায়, তার দুলাভাই মোহাম্মদ সাজ্জাদুল হক ৬ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তিতে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলেছিল। অন্যদিকে, মহাদেবপুর এবং শহরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে আধুনিক ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সদর থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুশফিকুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























