আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে একটি উচ্চপর্যায়ের এবং বৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইইউ-এর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। তিনি জানান, এই পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে পৌঁছাবেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাওলা পাম্পালোনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত সংস্কার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘বিস্তৃত অংশীদারি ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি’ (PCA), যা দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই চুক্তির আলোচনা দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট—উভয়ই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর দেশের মানুষ এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে উৎসবমুখরভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই চার্টার’ বা জুলাই সনদ অনুমোদন করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন। গত ১৭ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন দেওয়ার জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















