ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে যদি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হত্যা করতে পারেন বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গ্রাহাম দাবি করেন, নিজ দেশের সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ নিতে কোনো দ্বিধা করবে না।
ইরানে বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সিনেটর গ্রাহাম ইরানি শাসকদের সতর্ক করে বলেন, তারা যদি উন্নত জীবনের দাবিতে রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষকে হত্যা করে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানবেন। তিনি আরও বলেন, ইরানে চলমান এই গণজাগরণ মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি নতুন মোড় নিতে পারে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কড়া জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে তেহরান এসব মন্তব্যকে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, যারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা করছে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দাঙ্গাবাজদের পার্থক্য করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন সিনেটরের এই নজিরবিহীন মন্তব্য এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে যুদ্ধের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ইরানের সেনাপ্রধান পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, যেকোনো আক্রমণকারীর হাত তারা কেটে ফেলবেন। খামেনির মতো শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি অত্যন্ত বিরল ও বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















