দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও সংবিধানের খোলনলচে বদলে দিতে ‘১০০ বছরের রোডম্যাপ’ সামনে রেখে গণভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হলো—একটি মাত্র প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে চারটি বিশাল সংস্কার প্যাকেজের ভাগ্য নির্ধারণ। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গণভোটে ভোটারদের শুধু ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ সূচক মতামত দিতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধকরণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কারিগরি বিষয়গুলোকে একটিমাত্র প্রশ্নের ফ্রেমে বন্দি করা সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করলেও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এখনো নগণ্য। সাধারণ মানুষের কাছে এই জটিল সংস্কার প্রস্তাবগুলো স্পষ্ট করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী প্রচার কৌশল গ্রহণ করেছে। আগামী ৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০টি ‘সুপার ক্যারাভান’ দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় প্রচার চালাবে। এছাড়া ধর্মীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ৪ লাখ মসজিদ, মন্দির ও গির্জার ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের এই প্রচারণায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, দেশের ৮০ শতাংশ সাক্ষরতার হার এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে সহায়ক হবে। তবে মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে একটি ব্যালটে সীমাবদ্ধ করা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায়ই বলে দেবে বাংলাদেশ কি এই নতুন সাংবিধানিক রোডম্যাপে প্রবেশ করবে, নাকি দেশ নতুন কোনো আইনি বিতর্কের মুখে পড়বে। সরকারের জন্য এই গণভোট এখন এক ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























