আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্থার জনমত জরিপের ফলাফলে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইআরআই (IRI)-এর জরিপ বলছে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জনমত যথাক্রমে ৩০ ও ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স-এর জরিপে এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; সেখানে বিএনপি ৭০ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী ১৯ শতাংশ জনমত পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রকাশিত এই জরিপগুলোর ফলাফলে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণে এগুলোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও উপাত্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক নাগরিকই মব কালচার বা বিরূপ পরিস্থিতির ভয়ে খোলাখুলি মত প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম ও গবেষক সাঈদ আহমেদের মতো বিশ্লেষকরা বলছেন, তড়িঘড়ি করে করা এই জরিপগুলোতে নমুনা নির্বাচন (Sampling) এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নের ধরন এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা উত্তরদাতাকে একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং দুর্গম এলাকা বাদ দিয়ে সহজলভ্য নমুনার ওপর ভিত্তি করে জরিপ পরিচালনার ফলে এর সঠিক প্রতিফলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে মানুষের আবেগ ও সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাই একটি সস্তা বা অপর্যাপ্ত বাজেটের জরিপ কখনও জাতীয় জনমতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র হতে পারে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য উপাত্ত উপস্থাপনের প্রবণতাও এই জরিপগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ফলে এসব জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভোটাভুটি বা জনমতের বাস্তব প্রতিফলন কি না, তা নিয়ে খোদ ভোটার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, এ ধরনের জরিপ কেন্দ্রিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























