গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আজ পর্যন্ত জেলাটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত তিন শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। বিশেষ করে মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এছাড়া টুঙ্গিপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের অধিকাংশ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করছেন যে, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে দলীয় পদ-পদবি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। তবে কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতা বা পদপ্রাপ্তি সম্পর্কে আগে জানতেন না বলেও অজুহাত দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, গত দেড় বছরে জেলার বিভিন্ন থানায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০ হাজার মানুষকে আসামি করে ডজনখানেক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার ও আইনি হয়রানি থেকে বাঁচতেই তৃণমূলের নেতারা গণহারে পদত্যাগ করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানিয়েছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বলেন, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে বিতৃষ্ণ হয়েই অনেকে দল ছাড়ছেন। আবার কেউ কেউ আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে এমন ধারণা থেকে সরকারি দলের ছায়াতলে থাকতে চাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের যে সকল নেতার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ বা কেলেঙ্কারি নেই, তারা বিএনপিতে আসতে চাইলে তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে। ইতিপূর্বে অনেক পদত্যাগকারী নেতা সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























