বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ঘটনার আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু সেসব প্রভাব ফেলতে পারেনি তার ওপর। বাঁহাতি এই পেসার আবারও ডেথ ওভারে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ঝলক দেখিয়েছেন। সেই বোলিংয়ে বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঁচ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
অথচ এক দিন আগেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কাটার মাস্টারকে। যার প্রেক্ষাপটে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের মূলে ছিল তার এই ঘটনা। এসব ঘটনার পর এটিই ছিল মোস্তাফিজের প্রথম ম্যাচ।
রংপুরের দেওয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭ ওভার শেষে ঢাকা ছিল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৩১ রান। তখন ১৮ বলে প্রয়োজন মাত্র ২৫ রান। প্রথম দুই ওভারে ১৭ রান দেওয়া মোস্তাফিজ নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে এসে পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ওই ওভারে তিনি খরচ করেন মাত্র দুই রান এবং ফিরিয়ে দেন শামীম হোসেনকে (১১)। ফলে শেষ দুই ওভারে ঢাকার প্রয়োজন দাঁড়ায় ২৩ রান।
যদিও ১৯তম ওভারে রংপুরের আরেক পেসার আকিফ জাভেদ ১৩ রান দিয়ে ঢাকাকে আবার ম্যাচে ফেরান। শেষ ওভারে আবার নিজের ম্যাজিক দেখান মোস্তাফিজ। মাত্র চার রান দিয়ে ঢাকার সব সম্ভাবনার ইতি টেন দেন।
সেট ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুন ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৬* ও সাব্বির রহমান ৮ বলে অপরাজিত ১২ রানে ক্রিজে থাকলেও দলকে জেতাতে পারেননি। ঢাকা ৪ উইকেটে থামে ১৫০ রানে। মোস্তাফিজের অসাধারণ বোলিংয়েই নিশ্চিত হয় রংপুরের নাটকীয় জয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না রংপুরের। ৩০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামাল দেন মাহমুদউল্লাহ। ৪১ বলে ৭ চারে তার দায়িত্বশীল ৫১ রানের ইনিংস আর ডেভিড মালানের (৩৩) সঙ্গে ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ায় ম্যাচসেরাও ছিলেন তিনি।
শেষদিকে খুশদিল শাহ ২১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৩৮ রান করে রংপুরকে এনে দেন লড়াকু পুঁজি। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৫৫ রান পায় রংপুর।
ঢাকার হয়ে আফগান পেসার জিয়াউর রহমান ছিলেন সেরা। চার ওভারে ৩৫ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন। একটি করে নেন ইমাদ ওয়াসিম, তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
রিপোর্টারের নাম 
























