ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

দু-একদিনের মধ্যেই তারেক রহমান দলের চেয়ারপারসন হচ্ছেন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দু-একদিনের মধ্যেই তারেক রহমান দলের চেয়ারপারসনের পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন।’ রবিবার সন্ধ্যায় সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

বিকাল ৩টা ১৭ মিনিটে সস্ত্রীক সিলেটে ব্যক্তিগত সফরে আসেন মির্জা ফখরুল। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রথমে হজরত শাহজালাল (র.) এবং পরে হজারত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে বিমানবন্দর সড়কের উইন্ডসর হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি। রাত ৮টায় বিমানযোগে সিলেট ত্যাগ করেন।

মির্জা ফখরুল সব রাজনৈতিক দলের প্রতি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, সবাই মিলে আমাদের সামনে নির্বাচনের যে সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগাই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যেই দ্বার, সেই দ্বারকে অতিক্রম করি, একটি গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন করি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনের এই সময়টা জাতির জন্য ক্রান্তিকালের মতো। আমরা যদি ফেল করি, জাতিগতভাবে আমরা পিছিয়ে পড়বো। কাজেই, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য আমাদের সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমাদের এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা ঠিক হবে না, যার মাধ্যমে নির্বাচনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।’ তবে, নির্বাচন নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ১৫-১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা ভয় দেখিয়ে মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতো। মানুষ তার ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। মিডিয়ার স্বাধীনতা তিরোহিত ছিল। দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু ছিল না। বর্তমান বাস্তবতায় দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত এক বছর মেয়াদে ভয়ংকর কালচার মবক্রেসি দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিশেষ করে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেছেন– এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আগামী নির্বাচন নিয়ে মিডিয়া আশঙ্কার কথা বললেও দল হিসেবে বিএনপি শঙ্কা বোধ করে না। প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময় তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসতো ২০ ডিসেম্বরের জানাজা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন তিনি লালন করতেন, তার সেই স্বপ্নপূরণে আমাদের কাজ করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ এম এ মালেক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ দলের অন্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে

দু-একদিনের মধ্যেই তারেক রহমান দলের চেয়ারপারসন হচ্ছেন: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ১১:০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দু-একদিনের মধ্যেই তারেক রহমান দলের চেয়ারপারসনের পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন।’ রবিবার সন্ধ্যায় সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

বিকাল ৩টা ১৭ মিনিটে সস্ত্রীক সিলেটে ব্যক্তিগত সফরে আসেন মির্জা ফখরুল। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রথমে হজরত শাহজালাল (র.) এবং পরে হজারত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে বিমানবন্দর সড়কের উইন্ডসর হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি। রাত ৮টায় বিমানযোগে সিলেট ত্যাগ করেন।

মির্জা ফখরুল সব রাজনৈতিক দলের প্রতি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, সবাই মিলে আমাদের সামনে নির্বাচনের যে সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগাই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যেই দ্বার, সেই দ্বারকে অতিক্রম করি, একটি গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন করি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনের এই সময়টা জাতির জন্য ক্রান্তিকালের মতো। আমরা যদি ফেল করি, জাতিগতভাবে আমরা পিছিয়ে পড়বো। কাজেই, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য আমাদের সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমাদের এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা ঠিক হবে না, যার মাধ্যমে নির্বাচনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।’ তবে, নির্বাচন নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ১৫-১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা ভয় দেখিয়ে মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতো। মানুষ তার ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। মিডিয়ার স্বাধীনতা তিরোহিত ছিল। দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু ছিল না। বর্তমান বাস্তবতায় দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত এক বছর মেয়াদে ভয়ংকর কালচার মবক্রেসি দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিশেষ করে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেছেন– এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আগামী নির্বাচন নিয়ে মিডিয়া আশঙ্কার কথা বললেও দল হিসেবে বিএনপি শঙ্কা বোধ করে না। প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময় তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসতো ২০ ডিসেম্বরের জানাজা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন তিনি লালন করতেন, তার সেই স্বপ্নপূরণে আমাদের কাজ করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ এম এ মালেক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ দলের অন্য নেতৃবৃন্দ।