ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এনসিপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দিনাজপুর জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব এম এ তাফসীর হাসানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার এনসিপি দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

পত্রে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে এম এ তাফসীর হাসানকে দলের সব দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান বরাবর দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এনসিপি দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাফসীরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অন্য একজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে বোচাগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এম এ তাফসীর হাসান ও সদস্য মনজুরুল আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগী সন্তোষ কুমার রায় (৪০) বোচাগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করে আসামিদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের বারেয়া এলাকায় সন্তোষ কুমার রায়ের বসতবাড়িতে গিয়ে তার ভাই পরিমলকে খোঁজাখুঁজি করে কয়েকজন। এ সময় তারা বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র ওলটপালট করে। তারা সন্তোষ কুমার রায়কে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জড়ো হয়ে এনসিপির নেতা মনজুরুল আলমকে জনতা আটক করে। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আটক মনজুরুল আলমকে উদ্ধার করার জন্য এনসিপি নেতা এমএ তাফসীর ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও আটক করে রাখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ অভিযানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি লোহার পাইপ, একটি স্টিলের লাঠি (স্পিন্ডল ব্যাটন), কালো রঙের এক জোড়া বুট জুতা, সেনাবাহিনীর পোশাক সদৃশ একটি ফুল প্যান্ট, একটি কালো রঙের মিনি ক্যামেরা (মেমোরি কার্ডসহ), একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন মোবাইল উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও ওই এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এনসিপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দিনাজপুর জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব এম এ তাফসীর হাসানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার এনসিপি দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

পত্রে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে এম এ তাফসীর হাসানকে দলের সব দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান বরাবর দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এনসিপি দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাফসীরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অন্য একজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে বোচাগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এম এ তাফসীর হাসান ও সদস্য মনজুরুল আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগী সন্তোষ কুমার রায় (৪০) বোচাগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করে আসামিদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের বারেয়া এলাকায় সন্তোষ কুমার রায়ের বসতবাড়িতে গিয়ে তার ভাই পরিমলকে খোঁজাখুঁজি করে কয়েকজন। এ সময় তারা বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র ওলটপালট করে। তারা সন্তোষ কুমার রায়কে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জড়ো হয়ে এনসিপির নেতা মনজুরুল আলমকে জনতা আটক করে। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আটক মনজুরুল আলমকে উদ্ধার করার জন্য এনসিপি নেতা এমএ তাফসীর ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও আটক করে রাখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ অভিযানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি লোহার পাইপ, একটি স্টিলের লাঠি (স্পিন্ডল ব্যাটন), কালো রঙের এক জোড়া বুট জুতা, সেনাবাহিনীর পোশাক সদৃশ একটি ফুল প্যান্ট, একটি কালো রঙের মিনি ক্যামেরা (মেমোরি কার্ডসহ), একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন মোবাইল উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও ওই এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।