ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের (সালেহী) মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপরই প্রতিবাদে সম্মেলন কক্ষের ভেতর ও বাইরে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের উপযুক্ত প্রমাণক জমা দেওয়ার জন্য তাকে রবিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আজ তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন করলেও সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের প্রমাণক জমা দেননি। দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত এবং পরে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা তার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ (গ) দফা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না। প্রার্থী মাহবুবুল আলম তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও পেমেন্টের ই-মেইল কপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা যুক্তরাজ্যের অ্যাম্বাসি থেকে তার নাগরিকত্ব বাতিলের কোনও প্রমাণপত্র পাইনি। আমরা ওই প্রার্থীকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তার দাখিল করা কাগজের সঠিকতা পাইনি। এ জন্য তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করছি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণার পরপরই উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী কথা বলার সুযোগ চান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আপিলের পরামর্শ দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সম্মেলন কক্ষে ও কার্যালয় চত্বরে অপেক্ষমাণ জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথকে ফ্যাসিস্টের দোসর এবং ইসকন সদস্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ওই রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পাদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ সময় জামায়াতের জেলা নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দলটির কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী ইয়াসিন আলী সরকার উপস্থিত ছিলেন। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘আমাকে আজ ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার আগের বক্তব্যে অনড় ছিলেন। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকলেও তা দেখানোর সুযোগ দেননি। উনি (রিটার্নিং অফিসার) আগেও বোঝেননি, বোঝার চেষ্টাও করেননি। এখনও বুঝতেছেন না। উনি সম্পূর্ণ বায়াসড হয়ে ইন্টেনশনালি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আর কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বাকি ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানি-রফতানিতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ গভর্নরের

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের (সালেহী) মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপরই প্রতিবাদে সম্মেলন কক্ষের ভেতর ও বাইরে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের উপযুক্ত প্রমাণক জমা দেওয়ার জন্য তাকে রবিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আজ তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন করলেও সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের প্রমাণক জমা দেননি। দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত এবং পরে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা তার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২ (গ) দফা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না। প্রার্থী মাহবুবুল আলম তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও পেমেন্টের ই-মেইল কপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা যুক্তরাজ্যের অ্যাম্বাসি থেকে তার নাগরিকত্ব বাতিলের কোনও প্রমাণপত্র পাইনি। আমরা ওই প্রার্থীকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তার দাখিল করা কাগজের সঠিকতা পাইনি। এ জন্য তার মনোনয়নপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করছি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণার পরপরই উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী কথা বলার সুযোগ চান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আপিলের পরামর্শ দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই সম্মেলন কক্ষে ও কার্যালয় চত্বরে অপেক্ষমাণ জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথকে ফ্যাসিস্টের দোসর এবং ইসকন সদস্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ওই রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পাদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ সময় জামায়াতের জেলা নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দলটির কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী ইয়াসিন আলী সরকার উপস্থিত ছিলেন। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘আমাকে আজ ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার আগের বক্তব্যে অনড় ছিলেন। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকলেও তা দেখানোর সুযোগ দেননি। উনি (রিটার্নিং অফিসার) আগেও বোঝেননি, বোঝার চেষ্টাও করেননি। এখনও বুঝতেছেন না। উনি সম্পূর্ণ বায়াসড হয়ে ইন্টেনশনালি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আর কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বাকি ২৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।