ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জামিনে মুক্তি পেলেন বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী হাসান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

থানায় বসে পুলিশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ২০০ টাকা বন্ডে মাহদী জামিন দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে তাকে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে তাকে জামিন দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। 

পরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও সরকারি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এসআই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে করা মামলার প্রধান আসামি মাহদী হাসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০জনকে। 

হবিগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মজিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মাহদী হাসান হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়। 

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার সামনে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান নয়নকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান মাহদী হাসান। ভিডিওতে তাকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে তাকে ওসির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?” 

একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?” এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানেও কি ভেনেজুয়েলা মডেলে নেতা বাছাই করবেন ট্রাম্প?

জামিনে মুক্তি পেলেন বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী হাসান

আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

থানায় বসে পুলিশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ২০০ টাকা বন্ডে মাহদী জামিন দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে তাকে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে শুনানি শেষে তাকে জামিন দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। 

পরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও সরকারি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এসআই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে করা মামলার প্রধান আসামি মাহদী হাসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০জনকে। 

হবিগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মজিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মাহদী হাসান হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়। 

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার সামনে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান নয়নকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান মাহদী হাসান। ভিডিওতে তাকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে তাকে ওসির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?” 

একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?” এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।