ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

খাতুনগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম মণপ্রতি বেড়েছে ২০০ টাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম মণপ্রতি বেড়েছে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ টাকায়, এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়। রমজান সামনে রেখে চিনির দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার সাদা চিনি আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণে মিল মালিকরা ইচ্ছেমতো দামে চিনি বিক্রি করছেন।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার ৪৪০ টাকা। এরপর থেকে নিম্নমুখী ছিল চিনির বাজার। যা গত নভেম্বরে এসে ৩ হাজার ২১০ টাকায় ঠেকে। পরে মণপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়ে গত সপ্তাহে তা ৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এরই মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বর্তমানে প্রতিমণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, ‘গত বছর সরকারের পক্ষে পরিশোধিক সাদা চিনি আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল এবং দামও নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে সরাসরি পরিশোধিত সাদা চিনি আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। যে কারণে মিলের পরিশোধিত চিনির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এ জন্য দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন এ ব্যবসায়ী।’

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) সাদিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশে চিনি কারখানায় উৎপাদন হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে আমাদের প্রতি কেজি প্যাকেট চিনি ১৪০ টাকা এবং বস্তার চিনি ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে একসময় ১৭টি চিনিকল ছিল। ১৯৯১ সালের দিকে দুটি কারখানা বেসরকারিতে দিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ১৫টি চিনিকল আছে। লোকসান কমানোর জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে আরও ছয়টি কারখানার উৎপাদন স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ৯টি কারখানা সচল আছে। যেগুলো থেকে বছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।’

বাংলাদেশ চিনি ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজারে চিনি বিক্রি করে চারটি কোম্পানি। সেগুলো হলো– এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও আবুল খায়ের গ্রুপ। বর্তমানে সিটি গ্রুপের চিনি বাজারে নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) লাল চিনি বাজারে বিক্রি করে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কোম্পানি অনুযায়ী গত এক সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি চিনি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। অপরিশোধিত চিনি আমদানির পর সেগুলো মিলে পরিশোধনের পর বাজারে আসছে। আগে যেখানে ৩ হাজার ২০০ টাকায় প্রতি মণ চিনি বিক্রি করা হয়েছিল; সেখানে বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘হঠাৎ করে চিনির দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। কারণ একটাই, রমজান ঘনিয়ে এসেছে। এ কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে কারসাজি করছে দাম বৃদ্ধির। এটা তারই অংশ মূলত। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সংস্থাগুলোকেও এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘হঠাৎ করে চিনির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আ.লীগের সবচেয়ে বড় অপরাধ রাষ্ট্র ও পুলিশের ইউনিফর্মকে দলীয়করণ: তথ্যমন্ত্রী

খাতুনগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম মণপ্রতি বেড়েছে ২০০ টাকা

আপডেট সময় : ০৮:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম মণপ্রতি বেড়েছে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ টাকায়, এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়। রমজান সামনে রেখে চিনির দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার সাদা চিনি আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণে মিল মালিকরা ইচ্ছেমতো দামে চিনি বিক্রি করছেন।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার ৪৪০ টাকা। এরপর থেকে নিম্নমুখী ছিল চিনির বাজার। যা গত নভেম্বরে এসে ৩ হাজার ২১০ টাকায় ঠেকে। পরে মণপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়ে গত সপ্তাহে তা ৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এরই মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বর্তমানে প্রতিমণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, ‘গত বছর সরকারের পক্ষে পরিশোধিক সাদা চিনি আমদানির সুযোগ দেওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল এবং দামও নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে সরাসরি পরিশোধিত সাদা চিনি আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। যে কারণে মিলের পরিশোধিত চিনির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এ জন্য দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন এ ব্যবসায়ী।’

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) সাদিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশে চিনি কারখানায় উৎপাদন হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে আমাদের প্রতি কেজি প্যাকেট চিনি ১৪০ টাকা এবং বস্তার চিনি ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে একসময় ১৭টি চিনিকল ছিল। ১৯৯১ সালের দিকে দুটি কারখানা বেসরকারিতে দিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ১৫টি চিনিকল আছে। লোকসান কমানোর জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে আরও ছয়টি কারখানার উৎপাদন স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ৯টি কারখানা সচল আছে। যেগুলো থেকে বছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।’

বাংলাদেশ চিনি ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজারে চিনি বিক্রি করে চারটি কোম্পানি। সেগুলো হলো– এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও আবুল খায়ের গ্রুপ। বর্তমানে সিটি গ্রুপের চিনি বাজারে নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) লাল চিনি বাজারে বিক্রি করে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কোম্পানি অনুযায়ী গত এক সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি চিনি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। অপরিশোধিত চিনি আমদানির পর সেগুলো মিলে পরিশোধনের পর বাজারে আসছে। আগে যেখানে ৩ হাজার ২০০ টাকায় প্রতি মণ চিনি বিক্রি করা হয়েছিল; সেখানে বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায়।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘হঠাৎ করে চিনির দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। কারণ একটাই, রমজান ঘনিয়ে এসেছে। এ কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে কারসাজি করছে দাম বৃদ্ধির। এটা তারই অংশ মূলত। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সংস্থাগুলোকেও এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘হঠাৎ করে চিনির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’