ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা করা হলফনামায় এই সংক্রান্ত তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত রায়ের কপি বা কাগজপত্র তিনি জমা দেননি। বাছাইকালে জমা দিলেও বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা উল্লেখ ছিল না। তার নিয়োজিত আইনজীবীরা মৌখিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৭২-এর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ক্ষমতাবলে ওই মামলা জটিলতা বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ের চূড়ান্ত দিতে পারবেন। তাই প্রার্থীর সেখানে আপিলের সুযোগ রয়েছে।’

মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর ফরিদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে হামিদুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেই এই জটিলতার উত্থাপন করেন। এতে জোর আপত্তি জানান আলমগীর ফরিদ।

এই বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদের নিয়োগ করা আইনজীবী আকতার উদ্দীন হেলালী বলেন, ‘২০১৩ সালের ৯ জুন একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননায় অভিযুক্ত করে হামিদুর রহমান আযাদকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তিনি সেই সাজা ভোগ পুরোপুরি ভোগ করেছেন। যদিও সাজাটি ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভিত্তিক। কিন্তু এটি আদালতের অধিভুক্ত কোনও অপরাধে পড়বে না। অপরাধের ধারায় পড়লেই নির্বাচনে প্রার্থিতা হতে বাধা ছিল।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সাজা ভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে মামলাটির পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু আমার মক্কেল হামিদুর রহমান আযাদকে দেওয়া সেই সাজা অবৈধ ছিল। তাই ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে সেই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন তিনি। এরপর মামলাটির বাদীপক্ষ তিনি। পক্ষ অভিযুক্ত বা অপরাধী না। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন।’ তখন বাধা না হলে এখন কেন বাধা হবে তা বোধগম্য নয় বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ আকতার উদ্দীন হেলালী।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো। আপিলে আশা করি খুব সহজে এই বাধা উতরে হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে। আর দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে আদালত অবমাননার মামলাটিও রয়েছে।

অন্যদিকে, হামিদুর রহমান আযাদের আইকর খেলাপের আরেকটি বিষয়ে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন আলমগীর ফরিদ। তবে এ বিষয়ে বাছাইকালে উপস্থিত কর কর্মকর্তা জানান, হামিদুর রহমান আযাদের ২২ লাখ টাকা কর বকেয়া রয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই বকেয়া থাকলেও আয়কর খেলাপির তালিকায় পড়বেন না হামিদুর রহমান আজাদ। তাই এ বিষয়ে আপত্তি নেই কর বিভাগের।

জামায়াদের শীর্ষ সারির নেতা হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হতাশ হয়ে পড়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তবে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলছেন, আপিলে সহজেই বৈধ ঘোষিত মনোনয়নপত্র। এ নিয়ে হতাশ কিছু নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত: যাত্রীদের জন্য জরুরি বার্তা

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল

আপডেট সময় : ০৮:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা করা হলফনামায় এই সংক্রান্ত তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত রায়ের কপি বা কাগজপত্র তিনি জমা দেননি। বাছাইকালে জমা দিলেও বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা উল্লেখ ছিল না। তার নিয়োজিত আইনজীবীরা মৌখিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৭২-এর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ক্ষমতাবলে ওই মামলা জটিলতা বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ের চূড়ান্ত দিতে পারবেন। তাই প্রার্থীর সেখানে আপিলের সুযোগ রয়েছে।’

মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর ফরিদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে হামিদুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেই এই জটিলতার উত্থাপন করেন। এতে জোর আপত্তি জানান আলমগীর ফরিদ।

এই বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদের নিয়োগ করা আইনজীবী আকতার উদ্দীন হেলালী বলেন, ‘২০১৩ সালের ৯ জুন একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননায় অভিযুক্ত করে হামিদুর রহমান আযাদকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তিনি সেই সাজা ভোগ পুরোপুরি ভোগ করেছেন। যদিও সাজাটি ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভিত্তিক। কিন্তু এটি আদালতের অধিভুক্ত কোনও অপরাধে পড়বে না। অপরাধের ধারায় পড়লেই নির্বাচনে প্রার্থিতা হতে বাধা ছিল।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সাজা ভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে মামলাটির পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু আমার মক্কেল হামিদুর রহমান আযাদকে দেওয়া সেই সাজা অবৈধ ছিল। তাই ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে সেই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন তিনি। এরপর মামলাটির বাদীপক্ষ তিনি। পক্ষ অভিযুক্ত বা অপরাধী না। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন।’ তখন বাধা না হলে এখন কেন বাধা হবে তা বোধগম্য নয় বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ আকতার উদ্দীন হেলালী।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো। আপিলে আশা করি খুব সহজে এই বাধা উতরে হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে। আর দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে আদালত অবমাননার মামলাটিও রয়েছে।

অন্যদিকে, হামিদুর রহমান আযাদের আইকর খেলাপের আরেকটি বিষয়ে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন আলমগীর ফরিদ। তবে এ বিষয়ে বাছাইকালে উপস্থিত কর কর্মকর্তা জানান, হামিদুর রহমান আযাদের ২২ লাখ টাকা কর বকেয়া রয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই বকেয়া থাকলেও আয়কর খেলাপির তালিকায় পড়বেন না হামিদুর রহমান আজাদ। তাই এ বিষয়ে আপত্তি নেই কর বিভাগের।

জামায়াদের শীর্ষ সারির নেতা হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হতাশ হয়ে পড়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তবে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলছেন, আপিলে সহজেই বৈধ ঘোষিত মনোনয়নপত্র। এ নিয়ে হতাশ কিছু নেই।