ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে ।

বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে এই মৌসুমে চারদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুই দিনই এই তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন। এর আগে ২৬ ডিসেম্বর ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২৭ ডিসেম্বর ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

এই অনুযায়ী যশোরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। শীতের কারণে সারা দিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়।

তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

শহরের খড়কি এলাকার নির্মাণ শ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, শীতে ঘরের বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু না যেয়ে তো উপায় নেই। কাজের জন্য এসে বসে থাকলেও কাজ মিলছে না।

শহরের রায়পাড়া এলাকার শ্রমজীবী শহিদুল হোসেন বলেন, রাজমিস্ত্রির জোগালে বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। কাজের সন্ধানে এসে বসে আছি। শীতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছি। কাজ পাবো কি না জানি না।

উপশহর এলাকার রিকশাচালক আলী হোসেন বলেন, শীতে ঘরে থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। এ জন্য যাত্রী পাচ্ছি না। আয় রোজগারও কমেছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি।
গায়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকূলেরও জবুথবু অবস্থা। তীব্র রকমের শীতে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরাও নাকাল হয়ে পড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত: যাত্রীদের জন্য জরুরি বার্তা

আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে

আপডেট সময় : ১১:৩২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে ।

বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে এই মৌসুমে চারদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুই দিনই এই তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন। এর আগে ২৬ ডিসেম্বর ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২৭ ডিসেম্বর ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

এই অনুযায়ী যশোরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। শীতের কারণে সারা দিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়।

তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

শহরের খড়কি এলাকার নির্মাণ শ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, শীতে ঘরের বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু না যেয়ে তো উপায় নেই। কাজের জন্য এসে বসে থাকলেও কাজ মিলছে না।

শহরের রায়পাড়া এলাকার শ্রমজীবী শহিদুল হোসেন বলেন, রাজমিস্ত্রির জোগালে বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। কাজের সন্ধানে এসে বসে আছি। শীতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছি। কাজ পাবো কি না জানি না।

উপশহর এলাকার রিকশাচালক আলী হোসেন বলেন, শীতে ঘরে থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। এ জন্য যাত্রী পাচ্ছি না। আয় রোজগারও কমেছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি।
গায়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকূলেরও জবুথবু অবস্থা। তীব্র রকমের শীতে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরাও নাকাল হয়ে পড়ছে।