যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পদত্যাগ করার পর তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন আইন এবং প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এসে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দশটিরও বেশি ফেডারেশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ সভায় নতুন ক্রীড়া উপদেষ্টা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দেশব্যাপী জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে, যেখানে ৬৪ জেলা অংশ নেয়। এ প্রসঙ্গ তুলে জেলা পর্যায়ের ১৬ দল নিয়ে একটি সুপার লিগ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরূন হোসেন তুষার দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা দেবেন বলে জানান। এ সময় ক্রীড়া উপদেষ্টা তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাবনা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
ঘণ্টাখানেকের মতবিনিময় শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের অনুরোধে নিজের স্বল্প সময়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেন ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘অতীতে কিছু ফেডারেশনকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু ফেডারেশনকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় বলা হয়েছে, কোনও খেলায় আন্তর্জাতিক সাফল্যের সম্ভাবনা নেই—কিন্তু সেই খেলাগুলো জনপ্রিয়। খেলাধুলায় এলিটিজম থাকলে চলবে না। একজন ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে আমি যত বেশি সম্ভব খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে চাই, যাতে তরুণ সমাজ শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং মানসিক বিকাশ ঘটে। অর্থ বা ক্ষমতার কারণে কোনও নির্দিষ্ট খেলাকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে ড. আসিফ নজরুলের হাতে সময় রয়েছে দুই মাসেরও কম। এ সময়ের মধ্যে তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই আমার বিকেএসপি-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে। বিকেএসপি একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে, তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।’
শিগগিরই তিনি বিকেএসপি পরিদর্শনে যাবেন বলে জানান। এ সময় বাফুফে ও বিসিবি সভাপতিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশও দিয়েছেন।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অ্যাথলেটদের অবদান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক সাফল্য এসেছে পার্বত্য অঞ্চলের খেলোয়াড়দের হাত ধরে। সে কারণে পার্বত্য জেলাগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 
























