ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

বাকৃবিতে ছাত্রদল নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা: শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধে উত্তেজনা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাওলানা ভাসানী হলে মধ্যরাতে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ছাত্রদলের এক নেতার প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রক্রিয়া চলছিল বলে অভিযোগ ওঠার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বাগবিতণ্ডা ও প্রতিবাদের মুখে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত কয়েকজনকে হল থেকে সরিয়ে নেয়।

জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে পাঁচজন ছাত্রলীগ কর্মীকে হলে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, বাকৃবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিতিতে তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাগবিতণ্ডা চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন আগেই হল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, “ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”

অন্যদিকে, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদের তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার বা আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ্যাসিবাদের দোসরদের এই ক্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই একটি মহল অনলাইনে আমার নামে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, “জুলাই মাসের আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম সংস্কৃতি, র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটি এখনো বহাল রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দেব। এ রকম যাদের নামে অভিযোগ আছে, তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব্যবস্থা নেব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দোকানে দোকানে ঈদ পোশাকের রঙিন পসরা, জমে উঠছে কেনাকাটা

বাকৃবিতে ছাত্রদল নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা: শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১০:৪১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাওলানা ভাসানী হলে মধ্যরাতে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ছাত্রদলের এক নেতার প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রক্রিয়া চলছিল বলে অভিযোগ ওঠার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বাগবিতণ্ডা ও প্রতিবাদের মুখে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত কয়েকজনকে হল থেকে সরিয়ে নেয়।

জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে পাঁচজন ছাত্রলীগ কর্মীকে হলে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, বাকৃবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিতিতে তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাগবিতণ্ডা চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন আগেই হল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, “ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”

অন্যদিকে, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদের তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার বা আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ্যাসিবাদের দোসরদের এই ক্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই একটি মহল অনলাইনে আমার নামে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, “জুলাই মাসের আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম সংস্কৃতি, র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটি এখনো বহাল রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দেব। এ রকম যাদের নামে অভিযোগ আছে, তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব্যবস্থা নেব।”