কোচের সঙ্গে বিবাদের কথা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। কিন্তু ব্রাইটনের বিপক্ষে লিভারপুলের ২-০ গোলে জয়ের পর মিসরীয় ফরোয়ার্ডকে ঘিরে চলমান আলোচনায় পানি ঢেলে দিয়েছেন কোচ আর্নে স্লট। লিভারপুল কোচের ভাষ্য, সালাহর সঙ্গে মেটানোর মতো কোনও ঝামেলা নেই তার।
অথচ এক সপ্তাহ আগে লিডসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দেওয়া এক উত্তপ্ত সাক্ষাৎকারে ক্লাবের সমালোচনা করেছিলেন সালাহ। কিন্তু শনিবার অ্যানফিল্ডে বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ম্যাচের ৪৬ সেকেন্ডেই হুগো একিতিকে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধেই বদলি হিসেবে নামা সালাহ বিরতির পর একিতিকের দ্বিতীয় গোলে ভূমিকা রাখেন।
লিডসের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে সালাহকে একাদশে না রাখায় তিনি বলেছিলেন, ক্লাব তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। সেটি ছিল টানা তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে শুরুর একাদশে তার স্থান হয়নি। এল্যান্ড রোডে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহ বলেন, লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়।
এরপর মাঝ সপ্তাহে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের দলেও রাখা হয়নি তাকে। যদিও সেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল। শনিবারের ম্যাচের আগে সালাহকে ঘিরে তাই বেশ আলোচনা চলছিল। শুক্রবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্লট জানান, তিনি সালাহর সঙ্গে কথা বলবেন। আরও জানান, ‘ওকে রাখতে না চাওয়ার কোনও কারণ আমার নেই।’
ব্রাইটনের বিপক্ষে জয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডাচ কোচ বলেন, সালাহর সঙ্গে তার কোনও সমস্যা নেই, ‘আমার কাছে সে এখন অন্য সব খেলোয়াড়ের মতোই। খেলোয়াড় খুশি না হলে বা কোনও বিষয়ে অসন্তুষ্ট হলে কথা বলা হয়। কিন্তু লিডস ম্যাচের ঘটনার পর নতুন করে বলার মতো কিছু নেই।’
ইন্টার মিলানের বিপক্ষে সালাহকে না রাখার পেছনে তার সাক্ষাৎকারই কারণ ছিল বলে নিশ্চিত করেন স্লট। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তিও দেন তিনি,‘এটা সব সময়ই প্রশ্ন থাকে—একবার বাদ দেওয়া হবে, দুইবার, তিনবার, চারবার, চার মাস না কি ১২ বছর? প্রত্যেক কোচ এ বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। মিলানের বিপক্ষে সে দলে ছিল না, পরে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি।’
স্লট আরও বলেন, ‘কী কথা বলেছি, সেটা আমি সাধারণত বলি না, এবারও ব্যতিক্রম করবো না। তবে কথার চেয়ে কাজই বড়। সে আবার দলে ফিরেছে, আর প্রথম বদলি হিসেবে তাকেই নামানো হয়েছে। আজ সে যেমন খেলেছে, আমি মনে করি, আমার মতো সমর্থকরাও ঠিক সেভাবেই তাকে এভাবে খেলতে দেখতে চেয়েছে।’
রিপোর্টারের নাম 






















