ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের পর মেয়াদপূর্তির আগেই পদত্যাগ করবেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন: রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মেয়াদকালের মাঝামাঝি সময়েই তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান। তিনি আরও বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি নিজেকে অপমানিত বোধ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, তার এই ভূমিকা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতেই ন্যস্ত থাকে। তবে, গত বছর সংঘটিত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরে, প্রেসিডেন্টই দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন।

পঁচাত্তর বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছরের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেছিল।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেছেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে আগ্রহী।” প্রেসিডেন্ট আরও মন্তব্য করেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন না হচ্ছে, আমাকে চালিয়ে যেতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে থাকার ফলেই আমি আমার অবস্থান ধরে রেখেছি।”

তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস গত প্রায় সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করেননি। সাহাবুদ্দিন আরও বলেন যে, তার প্রেস বিভাগকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো থেকেও প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, “সকল কনস্যুলেট, দূতাবাস এবং হাইকমিশনে প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ছিল। তা হঠাৎ করেই রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয়।” তিনি মনে করেন, “এর ফলে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যায়। তারা মনে করে সম্ভবত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।” প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন জানান, এই প্রতিকৃতিগুলো নিয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠিও লিখেছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় কোনো সাড়া দেয়নি।

প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। রয়টার্সের ভাষ্যমতে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া তীব্র আন্দোলনের পক্ষে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছিল। এই সামরিক অবস্থানই হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তার ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা নেই। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকলেও জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণতন্ত্রে ফিরে যেতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট বলেন, যদিও শুরুতে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছিল, তবে এখনও পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে তাকে চাপ দেয়নি।

পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাব দিতে প্রেসিডেন্ট অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

নির্বাচনের পর মেয়াদপূর্তির আগেই পদত্যাগ করবেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন: রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মেয়াদকালের মাঝামাঝি সময়েই তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান। তিনি আরও বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি নিজেকে অপমানিত বোধ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, তার এই ভূমিকা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতেই ন্যস্ত থাকে। তবে, গত বছর সংঘটিত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরে, প্রেসিডেন্টই দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন।

পঁচাত্তর বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছরের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেছিল।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেছেন, “আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বেরিয়ে যেতে আগ্রহী।” প্রেসিডেন্ট আরও মন্তব্য করেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন না হচ্ছে, আমাকে চালিয়ে যেতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে থাকার ফলেই আমি আমার অবস্থান ধরে রেখেছি।”

তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস গত প্রায় সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করেননি। সাহাবুদ্দিন আরও বলেন যে, তার প্রেস বিভাগকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো থেকেও প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, “সকল কনস্যুলেট, দূতাবাস এবং হাইকমিশনে প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ছিল। তা হঠাৎ করেই রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয়।” তিনি মনে করেন, “এর ফলে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যায়। তারা মনে করে সম্ভবত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।” প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন জানান, এই প্রতিকৃতিগুলো নিয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠিও লিখেছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় কোনো সাড়া দেয়নি।

প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। রয়টার্সের ভাষ্যমতে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া তীব্র আন্দোলনের পক্ষে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছিল। এই সামরিক অবস্থানই হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তার ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা নেই। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকলেও জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণতন্ত্রে ফিরে যেতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট বলেন, যদিও শুরুতে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছিল, তবে এখনও পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে তাকে চাপ দেয়নি।

পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাব দিতে প্রেসিডেন্ট অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না।