ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এআই জালিয়াতি রোধে দ্রুত পৃথক আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মনে করছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে এর সাহায্যে জালিয়াতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি ভিসা সংক্রান্ত জালিয়াতিও হচ্ছে, যার কারণে অনেক দেশে বাংলাদেশের নাগরিকেরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে এআই ব্যবহার করে সংঘটিত জালিয়াতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি পৃথক আইন বা অধ্যাদেশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি এ বিষয়ে একটি আলাদা আইন প্রণয়নের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

পরবর্তীতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে এআই আসার পর জালিয়াতির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এর বিস্তৃতি এতটাই বেশি যে এটিকে জালিয়াতির সমুদ্র বলা যেতে পারে। এই জালিয়াতির কারণে বিভিন্ন দেশে দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। জালিয়াত চক্র বহু সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, তারা ভিসা পর্যন্ত জালিয়াতি করছে। এর ফলস্বরূপ অনেক দেশে বাংলাদেশের নাগরিকেরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই জালিয়াতি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা একটি পৃথক আইন প্রণয়নের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, আইনটি খুবই জরুরি ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধানসহ এই জালিয়াতি রোধে যত ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেরকম ব্যবস্থা রাখা হবে।

উপদেষ্টা পরিষদের গতকালের বৈঠকে বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন লাভ করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

এআই জালিয়াতি রোধে দ্রুত পৃথক আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মনে করছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে এর সাহায্যে জালিয়াতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি ভিসা সংক্রান্ত জালিয়াতিও হচ্ছে, যার কারণে অনেক দেশে বাংলাদেশের নাগরিকেরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে এআই ব্যবহার করে সংঘটিত জালিয়াতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি পৃথক আইন বা অধ্যাদেশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি এ বিষয়ে একটি আলাদা আইন প্রণয়নের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

পরবর্তীতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে এআই আসার পর জালিয়াতির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এর বিস্তৃতি এতটাই বেশি যে এটিকে জালিয়াতির সমুদ্র বলা যেতে পারে। এই জালিয়াতির কারণে বিভিন্ন দেশে দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। জালিয়াত চক্র বহু সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, তারা ভিসা পর্যন্ত জালিয়াতি করছে। এর ফলস্বরূপ অনেক দেশে বাংলাদেশের নাগরিকেরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই জালিয়াতি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা একটি পৃথক আইন প্রণয়নের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, আইনটি খুবই জরুরি ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধানসহ এই জালিয়াতি রোধে যত ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেরকম ব্যবস্থা রাখা হবে।

উপদেষ্টা পরিষদের গতকালের বৈঠকে বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন লাভ করেছে।