ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস: বাংলাদেশে নতুন বাস্তবতায়ও উদ্বেগ, সুষ্ঠু বিচারের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস, যা এবছর ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভিত্তি হোক মানবাধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র’ গ্রহণ করেছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি: গুম-ক্রসফায়ার না থাকলেও নতুন উদ্বেগ

বাংলাদেশে বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন, এই প্রশ্নে মানবাধিকার কর্মী ও গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান বলেছেন, আগের সরকারের সময় গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে এসব ঘটনা বন্ধ হয়েছে। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মব ভায়োলেন্স ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে, যা মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। নূর খান লিটন মনে করেন, এসব ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। তার মতে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের কাছে কঠোর বার্তা যাবে এবং দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি ঘটবে।

মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী খুশী কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৫ আগস্টের আগে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সে বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীরা সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ৫ আগস্টের পরেও একই অবস্থা চলছে। তিনি মনে করেন, চব্বিশ সালের আন্দোলনে যে পরিবর্তনের আশা এসেছিল, সেখানে দলের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। তার মতে, একইভাবে জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যার কারণে মানবাধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, শুধু শাসক পরিবর্তন হয়েছে; আসল গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বাণী: মানবাধিকারকে বিশ্বাসে রূপ দেওয়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মানবাধিকারকে বিশ্বাসের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে লালন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রতিটি মানুষ বৈষম্যহীনভাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর পালিত হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষ নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটায় এবং এর মধ্য দিয়েই জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়ে একটি ‘নতুন বাংলাদেশে’র সূচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা গর্বের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ৯টি মূল আন্তর্জাতিক চুক্তির সবগুলোতে যোগ দিয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ১৫ দফা দাবি

মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা সংঘটিত সকল ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস: বাংলাদেশে নতুন বাস্তবতায়ও উদ্বেগ, সুষ্ঠু বিচারের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস, যা এবছর ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভিত্তি হোক মানবাধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র’ গ্রহণ করেছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি: গুম-ক্রসফায়ার না থাকলেও নতুন উদ্বেগ

বাংলাদেশে বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন, এই প্রশ্নে মানবাধিকার কর্মী ও গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান বলেছেন, আগের সরকারের সময় গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে এসব ঘটনা বন্ধ হয়েছে। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মব ভায়োলেন্স ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে, যা মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। নূর খান লিটন মনে করেন, এসব ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। তার মতে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের কাছে কঠোর বার্তা যাবে এবং দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি ঘটবে।

মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী খুশী কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৫ আগস্টের আগে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সে বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীরা সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ৫ আগস্টের পরেও একই অবস্থা চলছে। তিনি মনে করেন, চব্বিশ সালের আন্দোলনে যে পরিবর্তনের আশা এসেছিল, সেখানে দলের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। তার মতে, একইভাবে জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যার কারণে মানবাধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, শুধু শাসক পরিবর্তন হয়েছে; আসল গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বাণী: মানবাধিকারকে বিশ্বাসে রূপ দেওয়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মানবাধিকারকে বিশ্বাসের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে লালন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রতিটি মানুষ বৈষম্যহীনভাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর পালিত হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষ নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটায় এবং এর মধ্য দিয়েই জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়ে একটি ‘নতুন বাংলাদেশে’র সূচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা গর্বের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ৯টি মূল আন্তর্জাতিক চুক্তির সবগুলোতে যোগ দিয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ১৫ দফা দাবি

মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা সংঘটিত সকল ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।