আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সকল প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) শেষ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক থাকলে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে বুধবার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারকে সিইসি-এর ভাষণ রেকর্ড করতে বলা হয়েছে। এই ভাষণেই আগামী সংসদ ভোটের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার মধ্যে ৫, ৮ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তফসিল ও ভোটগ্রহণের দিন নিয়ে চূড়ান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে, কমিশন চাইলে বিকল্প দিন হিসেবে ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারিও বেছে নিতে পারে।
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আজ (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানান যে, আসন্ন জাতীয় সংসদের তফসিল চলতি সপ্তাহে হতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি জানান, আসন বিন্যাস, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রজ্ঞাপন, ২০টির মতো পরিপত্র (মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, মনিটরিং সেল, আইন-শৃঙ্খলা সেল গঠন সংক্রান্ত) তৈরির ফরমেটগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
একই দিন দুপুরের দিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান আল মাসুদ বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির দায়িত্ব নয়; আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আসবে তফসিল ঘোষণার পর। তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। বুধবার রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত শেষে সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা হবে এবং এতে রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন আগামীকাল দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করতে যাবে।
ইসির এক কর্মকর্তা জানান, ভোটগ্রহণের পর রোজার আগে অন্তত সপ্তাহখানেক সময় হাতে রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন। কারণ, ভোটের দিন অনিয়ম বা হানাহানির কারণে যেসব কেন্দ্রে বা আসনে ভোট বন্ধ অথবা স্থগিত করা হবে, সেসব কেন্দ্র বা আসনে এক সপ্তাহের মধ্যে ভোট শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর সরকার গঠনের জন্য যে সময় লাগবে, সেটাও যেন রমজানের আগে সম্ভব হয় সেই সুযোগ রাখতে চায় ইসি। আগামী বছর পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার এর আগে নির্বাচন দেবে না। তাই শবে বরাতের পর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের (১৫ তারিখ) মধ্যেই ভোট দিতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি ৫ তারিখ বৃহস্পতিবার শবে বরাতের বন্ধ পড়ে যায়, তাহলে এর পরের সপ্তাহের যেকোনো দিন (৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট নিতে হবে।
ইতিহাসে, দেশে ১২টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার ও জাতীয় পার্টি ২ বার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি (৮৭%) এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম (২৬.৫%) ভোট পড়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 























