ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেলো ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্পকে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। ভারতের নয়াদিল্লিতে ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০-তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এই কনভেনশনের আওতায় এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ একক নিবন্ধন। এই পর্ষদে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত চার বছরে দ্বিতীয় নিবন্ধন।

চলমান এই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দলনেতা এবং ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি অসামান্য গৌরবের বিষয়। দীর্ঘ দুই শতকের অধিক সময় ধরে টাঙ্গাইলের তাঁতিদের অনবদ্য শিল্পকর্মের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটি। টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের সব নারীর নিত্য পরিধেয় যা এই শাড়ি বুনন শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।” রাষ্ট্রদূত এই অর্জন বাংলাদেশের সকল তাঁতি এবং নারীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত তালহা মনে করেন, ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনের মতো বাংলাদেশের বহু অপরিমেয় সাংস্কৃতিক উপাদান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নথি প্রস্তুত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কনভেনশন সংক্রান্ত অভিজ্ঞ জনবল তৈরি করার মাধ্যমে এই রকম আরও অনেক ঐতিহ্যের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।”

গত ৭ ডিসেম্বর আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের চলমান ২০তম সভা উদ্বোধন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক খালেদ এল এনানি যোগ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের নিজস্ব ভৌগলিক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করলে তা নিয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিবন্ধন অর্জনে জটিলতার আশংকা থাকলেও আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নথিটিকে ২০০৩ কনভেনশন অনুযায়ী উচ্চমান সম্পন্ন নিবন্ধন হিসেবে ঘোষণা করে। এই নিবন্ধনের ফলে টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে অতীতে সৃষ্ট জটিলতার অনেকটা সমাধান হয়েছে-এমনটাই মনে করেন অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক গবেষক এবং পেশাজীবীগণ।

এই নিবন্ধনের ফলে ভারতের নাগরিকদের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা আছে কিনা এমনটা জানতে চাইলে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, “এই নিবন্ধন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের মাধ্যমে হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই সদস্য। তাই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই নিবন্ধনের সম্পূর্ণ বৈধতা রয়েছে। এছাড়া, উভয় দেশের নারীদের কাছে শাড়ি একটি জনপ্রিয় পরিধেয়। তাই এই নিবন্ধন শাড়ি অনুগ্রাহী সব নারীকে তার প্রিয় পোশাক নিয়ে গর্ববোধ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারে মোসাদের গোপন তৎপরতা: দোহা অস্বীকার করলো অবগত থাকার তথ্য

ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেলো ‘টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’

আপডেট সময় : ০৭:২৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্পকে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। ভারতের নয়াদিল্লিতে ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০-তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এই কনভেনশনের আওতায় এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ একক নিবন্ধন। এই পর্ষদে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত চার বছরে দ্বিতীয় নিবন্ধন।

চলমান এই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দলনেতা এবং ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি অসামান্য গৌরবের বিষয়। দীর্ঘ দুই শতকের অধিক সময় ধরে টাঙ্গাইলের তাঁতিদের অনবদ্য শিল্পকর্মের বৈশ্বিক স্বীকৃতি এটি। টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের সব নারীর নিত্য পরিধেয় যা এই শাড়ি বুনন শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।” রাষ্ট্রদূত এই অর্জন বাংলাদেশের সকল তাঁতি এবং নারীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত তালহা মনে করেন, ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনের মতো বাংলাদেশের বহু অপরিমেয় সাংস্কৃতিক উপাদান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নথি প্রস্তুত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কনভেনশন সংক্রান্ত অভিজ্ঞ জনবল তৈরি করার মাধ্যমে এই রকম আরও অনেক ঐতিহ্যের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।”

গত ৭ ডিসেম্বর আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের চলমান ২০তম সভা উদ্বোধন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক খালেদ এল এনানি যোগ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের নিজস্ব ভৌগলিক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করলে তা নিয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিবন্ধন অর্জনে জটিলতার আশংকা থাকলেও আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নথিটিকে ২০০৩ কনভেনশন অনুযায়ী উচ্চমান সম্পন্ন নিবন্ধন হিসেবে ঘোষণা করে। এই নিবন্ধনের ফলে টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে অতীতে সৃষ্ট জটিলতার অনেকটা সমাধান হয়েছে-এমনটাই মনে করেন অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক গবেষক এবং পেশাজীবীগণ।

এই নিবন্ধনের ফলে ভারতের নাগরিকদের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা আছে কিনা এমনটা জানতে চাইলে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, “এই নিবন্ধন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের মাধ্যমে হয়েছে যেখানে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই সদস্য। তাই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই নিবন্ধনের সম্পূর্ণ বৈধতা রয়েছে। এছাড়া, উভয় দেশের নারীদের কাছে শাড়ি একটি জনপ্রিয় পরিধেয়। তাই এই নিবন্ধন শাড়ি অনুগ্রাহী সব নারীকে তার প্রিয় পোশাক নিয়ে গর্ববোধ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।”