শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপরও যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, তাদের শ্রমিক আন্দোলনকারী হিসেবে বিবেচনা করছে না পুলিশ। এসব ব্যক্তি ও তাদের পেছনে ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
বিকেলে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে আশুলিয়া-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় একটি কারখানার সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আপনারা জানেন, সম্প্রতি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকার আইনগতভাবে শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি দেখছে। এরপরও যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, তাদের কর্মকাণ্ডকে আমরা শ্রমিক আন্দোলন বলে মনে করি না। তারা শ্রমিক নয়, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। মালিকদেরও কারখানা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ পালন করছে বলেও জানান ডিআইজি।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পাশাপাশি নেপথ্যে ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কেও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। যে যতটুকু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন, তাঁর বিরুদ্ধে ততটাই কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক বিশৃঙ্খলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারা কতটুকু জড়িত, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও স্থানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের গুলিতে এক শ্রমিকের মৃত্যুর গুজব প্রসঙ্গে ডিআইজি বলেন, গত দুই দিন ধরে সাংবাদিকেরা সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করছেন। তাঁদের প্রতিনিধিরাও মাঠে রয়েছেন। কোথাও পুলিশের গুলিতে কোনো শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুজব ছড়ানোর কারখানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে সঠিক বার্তা দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে যারা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা করছে, তারা শ্রমিক নয়; তারা দুষ্কৃতকারী।





















