সরকারি এলপি গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে বেসরকারির প্রায় সমান করা হয়েছে। ১২.৫ কেজির বিদ্যমান দর ৭৭৬.৯৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন দর রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
এতদিন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ফর্মুলা অনুযায়ী দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া এলপিজির দাম অর্ধেকের কম ছিল। বিইআরসির প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী বাড়তি দামে বিক্রির টাকায় এলপিজি উন্নয়ন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড আগের থেকে সামান্য কিছুটা বাড়তি দাম পাবে। আর প্রতি ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের বিপরীতে ১০০৪ দশমিক ০৭ টাকা হারে এলপিজি খাত উন্নয়ন তহবিলে জমার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য পৃথক হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আদেশে।
গত ২৯ অক্টোবর এলপি গ্যাসের দামের ওপর গণশুনানি গ্রহণ করা হয়। তখন অভিযোগ ওঠে, সরকারি এলপি গ্যাসের তুলনায় বেসরকারির অনেক বেশি দাম হওয়ায় বাজারে কালোবাজারির ঘটনা ঘটছে। একই বাজারে বেসরকারি ১২ কেজি এলপিজি যখন ১৮৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তখন সরকারি ১২.৫ কেজি ৭৭৬.৯৩ টাকা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটির পাশাপাশি ভোক্তাদের পক্ষ থেকেও দর সমান করার প্রস্তাব করা হয়। তবে গণশুনানির পরবর্তীতে এলপি গ্যাস লিমিটেড আপত্তি জানায় এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে বেসরকারির তুলনায় কিছুটা কম দাম রাখার প্রস্তাব দেয়।
বিইআরসি ঘোষিত আগের দর নিয়ে আপত্তি করে আসছিল রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড। ২০২৫ সালে ১২.৫ কেজির দাম ৭৭৬.৯৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২৫ টাকা নির্ধারণের আবেদন দেওয়া হয়েছিল।
এক সময় এলপি গ্যাসের দাম বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন ছিল। ক্যাবের এক রিটের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে এলপিজি দর নির্ধারণ করে বিইআরসি। প্রায় ৯৯ শতাংশ আমদানি নির্ভর এলপিজির দর ঘোষণার সময় বলা হয়, সৌদি সিপিকে (চুক্তি মূল্য) ভিত্তিমূল্য বিবেচনা করা হবে। সিপির দর ওঠানামা করলে ভিত্তিমূল্য ওঠানামা করবে এবং অন্যান্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতিমাসে বেসরকারি এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।
তখন বলা হয়েছিল, বেসরকারি কোম্পানিগুলো চড়াদামে আমদানি করলেও এলপি গ্যাস লিমিটেড দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে উপজাত হিসেবে অনেক কম দামে পেয়ে থাকে। সে কারণে বিইআরসির ফর্মুলা (না লোকসান না মুনাফা) অনুযায়ী এলপি গ্যাস লিমিটেডের দর ঘোষণা করা হয়। তখন ১২.৫ কেজির দাম ৬৯০ টাকা নির্ধারিত ছিল। এরপর ২০২৫ সালের ৪ মে গণশুনানি ছাড়াই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
তখন বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সরকারি কোম্পানির এলপি গ্যাসের দামে কিছু প্যারামিটার রয়েছে। সেসব প্যারামিটারে পরিবর্তন এসেছে, সে কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে—যেভাবে আমরা বেসরকারি এলপি গ্যাসের দাম প্রতিমাসে সমন্বয় করছি। অতীতেও একবার সরকারি এলপিজির দাম শুনানি ছাড়া সমন্বয় করার নজির রয়েছে।
এলপি গ্যাস লিমিটেডের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন এলপিজি বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


























