পাহাড় মানেই বৈচিত্র্য। নৈসর্গিক সৌন্দর্য, বহুজাতিক সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা, জীবনধারা ও সম্প্রীতির এক অপার সম্ভাবনা। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন জেলা নিয়ে বিস্তৃত পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
তবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরে জমে রয়েছে সংঘাত, অবিশ্বাস, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও রক্তপাতের ইতিহাস। স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং সশস্ত্র তৎপরতা পাহাড়ের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বারবার বিপর্যস্ত করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীকেও প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি এমন একটি সামাজিক ভিত্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে জাতিগত পরিচয়ের চেয়ে মানুষের মূল পরিচয় হবে ‘মানুষ’। আর এই সেতুবন্ধন তৈরিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির অবদান অপরিসীম।
পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিভাজনের হাতিয়ার না বানিয়ে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা গেলে এটি হতে পারত অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকারের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি’ পাহাড়ের শিশু-কিশোরদের জন্য সেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে।


























