মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:০৯ অপরাহ্ন | ২রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার: পুরনো ত্রয়োদশ সংশোধনী নাকি নতুন রূপরেখা?

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক অনাস্থা এবং দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দীর্ঘ ব্যর্থতা থেকেই ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে বিচার বিভাগের বিতর্কিত ভূমিকা এবং আদালতের রায়ের ওপর ভর করে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটি বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ব্যবস্থাটি বাতিলের পর ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনই চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়েছে। টানা তিন মেয়াদের পর চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন আদালতের রায়, জুলাই সনদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির আলোকে সংবিধানে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে মূল প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই ব্যবস্থা কি অতীতের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতোই হবে, নাকি এর জন্য নতুন কোনো বিকল্প রূপরেখা তৈরি করা হবে?

জুলাই সনদে উল্লেখিত প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বিকল্প কাঠামো তৈরিতে জোর দিচ্ছে। কমিটি এরই মধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া, সরকারের আকার ও কর্মপরিধি নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব উঠে এসেছে।

বিশেষ করে অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করার বিধানের কারণে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এড়াতে অনেকেই বিচারকদের এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিকল্প হিসেবে ২০০৭ সালের মতো সেনা-নিয়ন্ত্রিত ‘সুশীল সরকার’ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাবও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।

বিশেষ কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে সংসদের উচ্চকক্ষ (দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা) গঠনের মাধ্যমে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টা বাছাইয়ের প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত স্পিকার কিংবা প্রস্তাবিত ভাইস-প্রেসিডেন্টকে এই সরকারের প্রধান করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই; তবে এর গঠনপদ্ধতি, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি এবং মেয়াদ কত দিন হবে—সে বিষয়ে সব পক্ষের মতামত সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি কোনো স্থায়ী গণতান্ত্রিক সমাধান নয় এবং রাজনীতিবিদদের জন্য আত্মমর্যাদাহানিকর হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী না হচ্ছে, পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে তুলে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা না যাচ্ছে, ততক্ষণ দলীয় সরকারের অধীনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ডামি প্রার্থী বা রাতে ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা ঠেকানো কঠিন। ফলে নতুন কাঠামো বা ত্রয়োদশ সংশোধনীর পুনর্বহাল—যে পথেই হাঁটা হোক না কেন, সংসদের খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে প্রধান ও উপদেষ্টাদের যোগ্যতা, নিয়োগের নিয়ম, সদস্যসংখ্যা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের স্পষ্ট বিধিমালার আইনি সমাধান হওয়া জরুরি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

৬১ বছর বয়সেও সুঠাম দেহ, শাহরুখের ফিটনেসের নেপথ্যে কী?

02 November 2026

অপেক্ষায় ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী, কোটা বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চায় হাব

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার: পুরনো ত্রয়োদশ সংশোধনী নাকি নতুন রূপরেখা?

হালনাগাদ সময় : ০৪:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক অনাস্থা এবং দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দীর্ঘ ব্যর্থতা থেকেই ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে বিচার বিভাগের বিতর্কিত ভূমিকা এবং আদালতের রায়ের ওপর ভর করে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থাটি বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ব্যবস্থাটি বাতিলের পর ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনই চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়েছে। টানা তিন মেয়াদের পর চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন আদালতের রায়, জুলাই সনদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির আলোকে সংবিধানে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে মূল প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই ব্যবস্থা কি অতীতের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতোই হবে, নাকি এর জন্য নতুন কোনো বিকল্প রূপরেখা তৈরি করা হবে?

জুলাই সনদে উল্লেখিত প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বিকল্প কাঠামো তৈরিতে জোর দিচ্ছে। কমিটি এরই মধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া, সরকারের আকার ও কর্মপরিধি নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব উঠে এসেছে।

বিশেষ করে অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করার বিধানের কারণে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এড়াতে অনেকেই বিচারকদের এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিকল্প হিসেবে ২০০৭ সালের মতো সেনা-নিয়ন্ত্রিত ‘সুশীল সরকার’ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাবও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।

বিশেষ কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে সংসদের উচ্চকক্ষ (দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা) গঠনের মাধ্যমে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টা বাছাইয়ের প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত স্পিকার কিংবা প্রস্তাবিত ভাইস-প্রেসিডেন্টকে এই সরকারের প্রধান করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই; তবে এর গঠনপদ্ধতি, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি এবং মেয়াদ কত দিন হবে—সে বিষয়ে সব পক্ষের মতামত সমন্বয় করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি কোনো স্থায়ী গণতান্ত্রিক সমাধান নয় এবং রাজনীতিবিদদের জন্য আত্মমর্যাদাহানিকর হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী না হচ্ছে, পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে তুলে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা না যাচ্ছে, ততক্ষণ দলীয় সরকারের অধীনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ডামি প্রার্থী বা রাতে ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা ঠেকানো কঠিন। ফলে নতুন কাঠামো বা ত্রয়োদশ সংশোধনীর পুনর্বহাল—যে পথেই হাঁটা হোক না কেন, সংসদের খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে প্রধান ও উপদেষ্টাদের যোগ্যতা, নিয়োগের নিয়ম, সদস্যসংখ্যা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের স্পষ্ট বিধিমালার আইনি সমাধান হওয়া জরুরি।

Share this news as a Photo Card