রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পরিবর্তন না হলে দেশ সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় মৌলিক সংস্কার এবং শরিয়াহভিত্তিক নীতিমালার প্রবর্তন করা না গেলে কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রই নয়, বরং প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার জসিম উদ্দীন মোড়ে দাওয়াতি মাসের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।
মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, কেবল সাময়িক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বা নীতি দিয়ে টেকসই কোনো সমাধান আনা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকাঠামোর বিদ্যমান দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জবাবদিহিহীনতা অক্ষুণ্ণ থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবাসহ সর্বক্ষেত্রে সংকট ঘনীভূত হবে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়লে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। এতে করে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
একটি কার্যকর, সুশাসিত ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, বিদ্যমান সংকট কাটাতে রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় দ্রুত ও যুগোপযোগী সংস্কারের বিকল্প নেই।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম।
সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি নিরাপদ ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। অথচ এখনো বিভিন্ন স্থানে অপরাধপ্রবণতা, শ্রমিক অসন্তোষ, তরুণদের অনৈতিক অবক্ষয় ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শরিয়াহভিত্তিক নীতি ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল দেশকে সব কলুষতা থেকে মুক্ত করা সম্ভব এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

























