‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভিত্তি হোক মানবাধিকার’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পালিত হবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৪৮ সালের এ দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এ ঘোষণার মাধ্যমে স্বীকৃত হয় মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জন্মস্থান, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাস, অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে মানবাধিকার সর্বজনীন ও সবার জন্য সমান।
দিবসটি পালনের আগে জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ১৫টি দাবি তুলে ধরছে—
১। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দিয়ে যে কোনও ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যেমন—বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমের অভিযোগ, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক্তিয়ার বহির্ভূত আচরণ ইত্যাদির অভিযোগ উঠলে—তা দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং সম্পৃক্তদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি দিতে হবে।
২। এ পর্যন্ত সংঘটিত সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩। এ পর্যন্ত যতগুলো গুমের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তার প্রত্যেকটির যথাযথ তদন্ত সম্পূর্ণ করতে হবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৪। দেশের যে কোনও নাগরিককে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
৫। মিথ্যা মামলাসংক্রান্ত যে অভিযোগগুলো উঠেছে সেগুলো আমলে নিয়ে অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৬। নাগরিকের সমবেত হওয়ার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকার যথাযথভাবে চর্চা করার পরিবেশ তৈরি এবং জনদুর্ভোগ এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভিন্নমত প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কিংবা কোনও ধরনের ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদারত্বের আওতায় রেখে তাদের কর্ম-পরিধি নিশ্চিত করতে হবে।
৮। নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইনগুলো পরিবর্তন আনতে হবে।
৯। ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করে কোনও সহিংসতার ঘটনা না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজ বিশ্বাস ও রীতি চর্চার অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১০। শিল্প সংস্কৃতি চর্চা নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তওহীদী জনতার নাম ধারণ করে মব সন্ত্রাস করে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র ভাঙচুর, নারী ও ভিন্ন মতাবলম্বিদের হেনস্থাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
১১। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন পুনর্গঠনে কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
১২। পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
১৩। কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১৪। অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সহযোগিতায় বিদেশি দূতাবাসগুলোতে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালুসহ অন্যান্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা বিস্তৃত করতে হবে।
১৫। সর্বোপরি, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করার জন্য সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















