মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:০০ অপরাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

স্পেনের আন্দালুসিয়ায় মুসলিম ঐতিহ্যের সন্ধানে এক দম্পতির লড়াই

  • হালনাগাদ সময় : ১২:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মালাগা রেলস্টেশন পেছনে ফেলে পাহাড়ঘেরা প্রকৃতির বুক চিরে ধীরগতিতে এগিয়ে চলছে ট্রেন। খাড়া পাহাড়ের ওপর নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেসে আসে ঘোষণা—পরবর্তী স্টেশন ‘আলখাইমা’। আরবি শব্দ ‘আল-খাইমা’ বা তাঁবু থেকে আসা এই নামটি যেন দক্ষিণ স্পেনের বুকে টিকে থাকা প্রাচীন মুসলিম সভ্যতার এক ক্ষীণ স্মারক।

স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ব্রিটিশ-হাঙ্গেরীয় মুসলিম হেনরিয়েটা সোভাতি। গত দুই বছর ধরে হেনরিয়েটা ও তাঁর স্বামী ইমাম ও থেরাপিস্ট আজমল মাসরুর স্পেনের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে তুলছেন এক অনন্য খামারবাড়ি। তাঁদের এই স্বপ্নের প্রকল্পের নাম ‘হাউস অব আন্দালুস’। দক্ষিণ স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি ইতিহাস ও প্রকৃতির সাথে মানুষকে নিবিড়ভাবে পরিচিত করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রায় ৩৫ একর পাহাড়ি জমির এই খামারে বর্তমানে চার শতাধিক জলপাইগাছ রয়েছে, যা এক হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে আধুনিক স্পেন ও পর্তুগাল পরিচিত ছিল ‘আল-আন্দালুস’ নামে। কর্ডোভা, সেভিল ও গ্রানাডার ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো এখনো সেই সোনালী ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। হেনরিয়েটা জানান, স্থানীয়দের আন্তরিক আচরণ এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের কারণেই স্পেনকে নিজেদের আপন ঠিকানা মনে হয়েছে। ইউরোপজুড়ে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও এখানে জীবনযাপন তুলনামূলক সহজ ও শান্তিপূর্ণ।

দীর্ঘ সাত বছর অনুসন্ধানের পর ২০২৪ সালে এই খামারবাড়িটি কেনেন হেনরিয়েটা ও আজমল দম্পতি। তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো এখানে একটি ‘কোরআনিক বাগান’ গড়ে তোলা, যেখানে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ডালিম, ডুমুর ও জলপাইসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের সমাহার থাকবে। সব মত ও পথের মানুষকে স্বাগত জানিয়ে সম্প্রীতির এক নতুন আবহ তৈরি করাই এই দম্পতির মূল লক্ষ্য।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আট বছর পর সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

04 November 2026

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: পুড়ল ওসির গাড়ি, আহত অর্ধশতাধিক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

স্পেনের আন্দালুসিয়ায় মুসলিম ঐতিহ্যের সন্ধানে এক দম্পতির লড়াই

হালনাগাদ সময় : ১২:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মালাগা রেলস্টেশন পেছনে ফেলে পাহাড়ঘেরা প্রকৃতির বুক চিরে ধীরগতিতে এগিয়ে চলছে ট্রেন। খাড়া পাহাড়ের ওপর নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেসে আসে ঘোষণা—পরবর্তী স্টেশন ‘আলখাইমা’। আরবি শব্দ ‘আল-খাইমা’ বা তাঁবু থেকে আসা এই নামটি যেন দক্ষিণ স্পেনের বুকে টিকে থাকা প্রাচীন মুসলিম সভ্যতার এক ক্ষীণ স্মারক।

স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ব্রিটিশ-হাঙ্গেরীয় মুসলিম হেনরিয়েটা সোভাতি। গত দুই বছর ধরে হেনরিয়েটা ও তাঁর স্বামী ইমাম ও থেরাপিস্ট আজমল মাসরুর স্পেনের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে তুলছেন এক অনন্য খামারবাড়ি। তাঁদের এই স্বপ্নের প্রকল্পের নাম ‘হাউস অব আন্দালুস’। দক্ষিণ স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি ইতিহাস ও প্রকৃতির সাথে মানুষকে নিবিড়ভাবে পরিচিত করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রায় ৩৫ একর পাহাড়ি জমির এই খামারে বর্তমানে চার শতাধিক জলপাইগাছ রয়েছে, যা এক হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে আধুনিক স্পেন ও পর্তুগাল পরিচিত ছিল ‘আল-আন্দালুস’ নামে। কর্ডোভা, সেভিল ও গ্রানাডার ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো এখনো সেই সোনালী ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। হেনরিয়েটা জানান, স্থানীয়দের আন্তরিক আচরণ এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের কারণেই স্পেনকে নিজেদের আপন ঠিকানা মনে হয়েছে। ইউরোপজুড়ে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও এখানে জীবনযাপন তুলনামূলক সহজ ও শান্তিপূর্ণ।

দীর্ঘ সাত বছর অনুসন্ধানের পর ২০২৪ সালে এই খামারবাড়িটি কেনেন হেনরিয়েটা ও আজমল দম্পতি। তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো এখানে একটি ‘কোরআনিক বাগান’ গড়ে তোলা, যেখানে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ডালিম, ডুমুর ও জলপাইসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের সমাহার থাকবে। সব মত ও পথের মানুষকে স্বাগত জানিয়ে সম্প্রীতির এক নতুন আবহ তৈরি করাই এই দম্পতির মূল লক্ষ্য।

Share this news as a Photo Card